কলকাতার বেকার হোস্টেলে বঙ্গবন্ধুর নতুন ভাস্কর্য

0
309
কলকাতার ঐতিহ্যবাহী সরকারি বেকার হোস্টেলের বঙ্গবন্ধুর স্মৃতিকক্ষে বাংলাদেশের স্থপতি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নতুন একটি ভাস্কর্য স্থাপন করা হয়েছে।

কলকাতার ঐতিহ্যবাহী সরকারি বেকার হোস্টেলের বঙ্গবন্ধুর স্মৃতিকক্ষে বাংলাদেশের স্থপতি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নতুন একটি ভাস্কর্য স্থাপন করা হয়েছে। আজ শনিবার সকালে এই ভাস্কর্যের আনুষ্ঠানিক উন্মোচন করেন বাংলাদেশের স্থানীয় সরকার ও পল্লি উন্নয়ন মন্ত্রী মো. তাজুল ইসলাম। এ সময় উপস্থিত ছিলেন একই মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী স্বপন ভট্টাচার্য , পশ্চিমবঙ্গের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও সিভিল ডিফেন্স দপ্তরের মন্ত্রী জাভেদ আহমেদ খান এবং কলকাতায় নিযুক্ত বাংলাদেশের উপহাইকমিশনার তৌফিক হাসান সহ কলকাতার বিশিষ্টজনেরা।

এর আগে এই বেকার হোস্টেলে ২০১১ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি প্রথম বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য স্থাপন করা হয়েছিল । কিন্তু বঙ্গবন্ধুর মুখমণ্ডল যথাযথভাবে ফুটিয়ে তুলতে পারেননি কলকাতার ভাস্কর। এ নিয়ে পরবর্তীতে বারবার আপত্তি ওঠার পর এবার সেখানে বঙ্গবন্ধুর প্রকৃত অবয়ব ফুটিয়ে তুলে নতুন একটি ভাস্কর্য স্থাপনের উদ্যোগ নেন বাংলাদেশের স্থানীয় সরকারমন্ত্রী তাজুল ইসলাম। তাঁরই উদ্যোগে এবং প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শে এখানে পুরোনো ভাস্কর্যকে সরিয়ে নতুন ভাস্কর্য স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়। আজ সেই লক্ষ্যে বঙ্গবন্ধুর নতুন একটি ভাস্কর্য ঢাকা থেকে এনে আজ তা স্থাপন করা করা হয়।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নতুন ভাস্কর্য।

এই ভাস্কর্য উন্মোচন করে মন্ত্রী বলেন, বঙ্গবন্ধু সারা বিশ্বের বাঙালিদের গর্ব। তাঁর নাম আজ ছড়িয়ে রয়েছে বিশ্বের কোটি কোটি মানুষের হৃদয়ে। জাতির পিতার নেতৃত্বেই বিশ্ব পেয়েছে বাঙালিদের একটি পৃথক আবাস ভূমি। তাই আমাদের হৃদয়ে আজও অমর বঙ্গবন্ধু।

তাজুল ইসলাম বলেন, বঙ্গবন্ধুর বাংলাদেশের সঙ্গে রয়েছে ভারতের এক বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আছে। যুগ যুগ ধরে লালিত সেই সম্পর্ক আজও অটুট। আমাদের এই সম্পর্ক আরও দৃঢ় হলো আজ কলকাতার বঙ্গবন্ধুর স্মৃতিবাহী বেকার হোস্টেলে এই ভাস্কর্য উন্মোচনের মধ্য দিয়ে।

বঙ্গবন্ধুর নতুন এই ভাস্কর্যটি তৈরি করেছে ঢাকার শিল্পী লিটন পাল রনি। ঐতিহ্যবাহী বেকার হোস্টেলটির অবস্থান কলকাতার শিয়ালদহের কাছে ৮ স্মিথ লেনে।

১৯১০ সালে কলকাতায় প্রতিষ্ঠিত হয় এই বেকার হোস্টেল। এটি সরকারি ছাত্রাবাস। বঙ্গবন্ধু কলকাতার ইসলামিয়া কলেজে ডিগ্রি পড়ার সময় এই বেকার হোস্টেলে ছিলেন ১৯৪২ থেকে ১৯৪৭ সাল পর্যন্ত। ইন্টারমিডিয়েট পাশ করে তিনি ১৯৪২ সালে ভর্তি হয়েছিলেন এই ইসলামিয়া কলেজে। ছিলেন ২৪ নম্বর কক্ষে। সেদিনকার এই ইসলামিয়া কলেজের নাম পরিবর্তন করে এখন নামকরণ করা হয়েছে মাওলানা আজাদ কলেজ। ১৯৪৬ সালে বঙ্গবন্ধু ইসলামিয়া কলেজছাত্র সংসদের সাধারণ সম্পাদক হন। ১৯৪৭ সালে তিনি কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীন এই ইসলামিয়া কলেজ থেকে স্নাতক পাশ করেছিলেন।

১৯৯৮ সালে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের উদ্যোগে বেকার হোস্টেলের ২৩ ও ২৪ নম্বর কক্ষ নিয়ে গড়া হয় বঙ্গবন্ধু স্মৃতি কক্ষ। এই স্মৃতি কক্ষে এখনো রয়েছে বঙ্গবন্ধুর ব্যবহৃত খাট, চেয়ার, টেবিল এবং আলমারি। তৎকালীন বাংলাদেশ সরকারের অনুরোধে পশ্চিমবঙ্গের তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী জ্যোতি বসু ২৪ নম্বরের পাশের ২৩ নম্বর কক্ষটিকে যুক্ত করে স্মৃতিকক্ষ গড়ার উদ্যোগ নেন। সেই হিসাবে ১৯৯৮ সালের ৩১ জুলাই বঙ্গবন্ধু স্মৃতি কক্ষের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন পশ্চিমবঙ্গের তৎকালীন উচ্চ শিক্ষামন্ত্রী অধ্যাপক সত্যসাধন চক্রবর্তী।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে