কর্ণাটকের হিজাব মামলায় ভারতের সুপ্রিম কোর্টের বিভক্ত রায়, মামলা যাচ্ছে উচ্চতর বেঞ্চে

0
55
ভারতের সুপ্রিম কোর্ট

বিচারপতি হেমন্ত গুপ্ত ও বিচারপতি সুধাংশু ধুলিয়ার এজলাসে এ মামলার শুনানি শেষ হয়েছিল গত ২২ সেপ্টেম্বর। সেই থেকে এই রায় সংরক্ষিত রাখা হয়। আজ সেই রায়ে বিচারপতি হেমন্ত গুপ্ত কর্ণাটক হাইকোর্টের রায় বহাল রেখে আবেদন খারিজ করে দেন। কিন্তু বিচারপতি সুধাংশু ধুলিয়া মুসলিম ছাত্রীদের আবেদনের যৌক্তিকতা মেনে কর্ণাটক হাইকোর্টের রায় খারিজ করেন। সংবিধানের ২৫ অনুচ্ছেদের উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘হিজাব পরা না–পরা মুসলিম ছাত্রীদের পছন্দের অধিকার। এর বেশি বা কম কিছুই নয়। আমার কাছে সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ মেয়েদের শিক্ষার প্রসার।’

চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে কর্ণাটকের একটি বিদ্যালয়ের শ্রেণিকক্ষে হিজাব পরিহিত মুসলিম ছাত্রীদের বসতে বাধা দেওয়া হয়। কর্তৃপক্ষ জানায়, ইউনিফর্মের বাইরে কাউকে অন্য কোনো পোশাক পরতে দেওয়া হবে না। সেই সিদ্ধান্ত যে বিতর্কের জন্ম দেয়, অচিরেই তা সারা রাজ্যে ছড়িয়ে পড়ে। রাজ্যের বাইরেও এর প্রভাব পড়ে। হিন্দুত্ববাদী সংগঠনের অনুগামীরা গেরুয়া উত্তরীয় ও চাদর পরতে শুরু করেন। হিজাবের পক্ষে–বিপক্ষে শুরু হয় আন্দোলন। কোথাও কোথাও সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটে।

বিতর্কের রেশ থাকতে থাকতেই কর্ণাটকের বিজেপি সরকার বিদ্যালয়ে পোশাকসংক্রান্ত নির্দেশ জারি করে জানায়, যেখানে পোশাক বিধি আছে, সেখানে তা মানতে হবে। যেখানে নেই, সেখানে এমন কিছু পরা যাবে না, যাতে শিক্ষালয়ের পরিবেশ, শৃঙ্খলা, ঐক্য ও ভারসাম্য নষ্ট হয়। রাজ্য সরকারের দাবি, ওই নির্দেশ সাম্প্রদায়িক নয়, ধর্ম নিরপেক্ষ। রাজ্য সরকার বিদ্যালয়ে পোশাকবিধির বাইরে হিজাবের মতো গেরুয়া উত্তরীয়ও নিষিদ্ধ করে।

ওই সিদ্ধান্তের বাইরে কিছু মুসলিম ছাত্রী হাইকোর্টে নির্দেশের বিরুদ্ধে মামলা করেন। হাইকোর্ট সেই মামলা খারিজ করে সরকারি নির্দেশ বহাল রাখেন। রায়ে বলা হয়, হিজাব পরা ইসলামে অপরিহার্য নয়। সেই রায়ের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে মামলা করেন মুসলমান ছাত্রীরা। শুনানির সময় এ কথাও বলা হয়েছিল, এই নিষেধাজ্ঞা মুসলমান নারীদের শিক্ষা ও ক্ষমতায়নের পথে বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছে। মুসলমান নারীদের মধ্যে শিক্ষার যে বিকাশ ঘটছে, এই নির্দেশ তাতে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করছে। অনেকেই পড়া শেষ না করে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ছেড়ে যাচ্ছেন।

কর্ণাটক হাইকোর্টে মুসলমান ছাত্রীরা এই আবেদনও করেছিলেন, যাঁরা হিজাব পরতে আগ্রহী, তাঁদের ইউনিফর্মের সঙ্গে মানানসই হিজাব পরার অনুমতি দেওয়া হোক। রাজ্য সরকার তা মানেনি। হাইকোর্টও সেই বিষয়ে মন্তব্য করেননি।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.