করোনায় দুই বছর পিছিয়েছে এশিয়া

এডিবির প্রতিবেদন

0
46
এডিবি

করোনাভাইরাস অতিমারিতে দারিদ্র্য নিরসনের যুদ্ধে অন্তত দুই বছর পিছিয়ে গেছে এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের দেশগুলো। এ অঞ্চলের অনেক দেশের জন্য দারিদ্র্যমুক্ত হওয়ার কাজকে আগের চেয়ে অনেক কঠিন হয়ে পড়েছে।

এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) এক প্রতিবেদনে এ কথা বলা হয়েছে। এশিয়া ও প্যাসিফিক অঞ্চলের প্রধান সূচক সম্পর্কিত ওই প্রতিবেদনটি বুধবার প্রকাশ করেছে সংস্থাটি।

এডিবির প্রতিবেদনে বলা হয়, করোনার আগে আশা করা হয়েছিল, ২০২০ সালে এ অঞ্চলে অতি দারিদ্র্য অর্থাৎ দিনে ১ দশমিক ৯ ডলারের কম আয় করে এমন মানুষের হার কমবে ২ দশমিক ৯ শতাংশ। কিন্তু অর্থনীতি ও সামাজিক বিভিন্ন খাতে করোনার নেতিবাচক প্রভাবে অতিদরিদ্র তো কমেইনি বরং ৫ শতাংশ বেড়েছে। তার পরের বছর অর্থাৎ ২০২১ সালে এই হার বেড়েছে ৩ দশমিক ৮ শতাংশ। চলতি বছরও এটি প্রায় ৩ শতাংশ হারে বাড়বে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ২০২১ সালে এশিয়ার উন্নয়নশীল দেশগুলোর অন্তত ২০ শতাংশ মানুষ দারিদ্র্যের কাতারে ছিল। মোট দেশজ উৎপাদনে (জিডিপি) এই অঞ্চলের অর্ধেক দেশ এখনও করোনার আগের অবস্থায় ফিরতে পারেনি। ২০২১ সালেও কর্মঘণ্টার পরিমাণ ছিল করোনা-পূর্ববর্তী সময়ের চেয়ে ৩ দশমিক ৬ শতাংশ কম। শিক্ষাসহ সামাজিক নানা খাতে করোনার প্রভাবও তুলে ধরা হয়েছে এডিবির প্রতিবেদনে।

এডিবি বলেছে, করোনার নতুন ধরন দেখা দিয়েছে। সেই সঙ্গে ইউক্রেন-রাশিয়ার যুদ্ধের কারণে বৈশ্বিক অর্থনীতিতে নানা অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। ফলে অর্থনীতি ও সমাজে যে ক্ষতি হয়েছে, করোনার কারণে তা থেকে পুনরুদ্ধার কার্যক্রম নাজুক অবস্থায় পড়েছে।

বাংলাদেশ প্রসঙ্গে এডিবির প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, করোনার সময়েও এশিয়ার যে ক’টি দেশ ভালো অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জন অব্যাহত রাখতে পেরেছে বাংলাদেশ তার অন্যতম। তবে করোনায় বন্দরে পণ্য পৌঁছানো কমে যাওয়াসহ পরিবহন ব্যবস্থা থমকে যাওয়া, শিশুদের বিদ্যালয় থেকে ঝরে যাওয়া, বাল্যবিয়ের ঘটনা বেড়ে যাওয়া নিয়ে শঙ্কা তৈরি হয়েছে। ১৮ বছরের কম বয়সে বিয়ের ক্ষেত্রে এ অঞ্চলের নির্বাচিত ৩৩টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশ রয়েছে শীর্ষস্থানে।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.