করোনার প্রতিষেধক আবিষ্কারের আগে লকডাউন তুলে ফেলা ঠিক হবে না

0
108
আবারও মহামারি আকারে করোনাভাইরাসের ছড়িয়ে পড়া ঠেকাতে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার ওপর জোর দিচ্ছেন গবেষকেরা। রয়টার্সের ফাইল ছবি

অনেক দেশই করোনাভাইরাসের বিস্তার ঠেকাতে আরোপ করা লকডাউন তুলে নিয়ে জনগণকে স্বাভাবিক জীবন ফিরিয়ে দেওয়ার কথা ভাবছে। তবে কার্যকর প্রতিষেধক আবিষ্কারের আগ পর্যন্ত এমনটা করা ঠিক হবে না বলে মনে করছেন হংকংয়ের একদল গবেষক। চীনের মহামারিকালের নানা তথ্য ও অভিজ্ঞতা বিশ্লেষণ করে তাঁরা এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছেছেন। চিকিৎসা সাময়িকী ল্যানসেটে গবেষণাটি প্রকাশিত হয়েছে।

গবেষকরা বলছেন, লকডাউন তুলে নেওয়ার সিদ্ধান্তের আগে নতুন করে এই ভাইরাসের সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ে কিনা এবং তা কীভাবে মোকাবিলা করা যায়, তা গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করতে হবে। অন্তত করোনাভাইরাসের প্রতিষেধক আবিষ্কারের আগ পর্যন্ত এমনটা করতে হবে।

হংকং–ভিত্তিক এই গবেষকেরা বলছেন, চীন লকডাউনের মতো কঠোর পদক্ষেপ নিয়ে করোনাভাইরাসের প্রথম ঢেউ সামাল দিতে পেরেছে। তবে এর মানে এই নয় যে ভাইরাসটি দ্বিতীয় দফায় হানা দেবে না।

এই গবেষণা দলের সহ–নেতা ইউনিভার্সিটি অব হংকংয়ের অধ্যাপক জোসেফ তি উ বলেন, লকডাউন ওঠে গেলে ব্যবসা–বাণিজ্য, কলকারখানা ও বিদ্যালয়ে পড়াশোনা ধীরে ধীরে শুরু হবে। এসবের ফলে মানুষ আবার সামাজিক মেলামেশা শুরু করবেন। এই ভাইরাসে সংক্রমণের আশঙ্কা বাড়বে। এসব কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি প্রবাসীদের মাধ্যমে ক্রমাগত এই ভাইরাস বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়তে পারে। এখন পর্যন্ত সামাজিক মেলামেশা নিয়ন্ত্রণ করে এই ভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা কমানো গেছে। কিন্তু শরীরের ভেতরের প্রতিরোধ ব্যবস্থা শক্তিশালী করে এটাকে দমন করা যায়নি। ফলে ঝুঁকি ভালোভাবেই থেকে যায়।

চীন ধারণা করছে, ব্যক্তির কাছ থেকে ব্যক্তির সংক্রমণের হার কমে যাবে। তবে এই গবেষক দল সতর্ক করে বলেছে, যদি দ্রুত স্বাভাবিক জীবনযাত্রা শুরু হয় এবং কোনো ধরনের নিয়ন্ত্রণ রাখা না হয়; তাহলে আক্রান্তের সংখ্যা আবার বাড়বে। তাই সরকারগুলোর উচিত এখন থেকেই পরিস্থিতির দিকে নজর রাখা। বিশেষত কার্যকর প্রতিষেধক আবিষ্কারের আগ পর্যন্ত সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা, হাত ধোয়া ও হাঁচি–কাশি দেওয়ার ক্ষেত্রে যথাযথ নিয়ম মেনে চলা, শারীরিক দূরত্ব বজায় রেখে অর্থনৈতিক কাজে যুক্ত থাকার মতো বিষয়গুলো মানতে হবে। প্রতিষেধক আবিষ্কার এবং সেগুলো বাজারে সুলভ হওয়ার আগ পর্যন্ত এসব নিয়ম মেনে চলা উচিত বলে মনে করেন অধ্যাপক জোসেফ তি উ।

এই গবেষণায় বলা হয়েছে, যে হুবেই প্রদেশে এই ভাইরাসের উৎপত্তি সেখানে মৃত্যুর হার ছিল ৬ শতাংশ। চীনের মূল ভূখণ্ডে মৃত্যুহার অনেক কম ছিল, ১ শতাংশেরও কম। মৃত্যুহারের সঙ্গে প্রত্যেক প্রদেশের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির বিষয়টি যুক্ত। একই সঙ্গে যুক্ত সহজে স্বাস্থ্যসেবা পাওয়ার বিষয়টিও।

এই গবেষণার জ্যেষ্ঠ লেখক হংকং বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক গ্যাব্রিয়েল এম লিউং বলেন, ‘বেইজিং ও সাংহাইয়ের মতো সমৃদ্ধ মেগাসিটিগুলোতেও স্বাস্থ্যসেবা সীমিত। হঠাৎ করে চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় রীতিমতো হিমশিম খেতে হয়েছে স্বাস্থ্যসেবা খাতের কর্তৃপক্ষকে। গবেষণা থেকে আমরা এটা পেয়েছি যে স্থানীয় স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থার ওপর জোর দিতে হবে। এখানে পর্যাপ্ত জনবল ও সুযোগ–সুবিধা থাকলে করোনাভাইরাসে মৃত্যুর সংখ্যা একেবারে কমিয়ে আনা যাবে।’

অর্থনীতির কথা বিবেচনা করে যদি লকডাউন তুলে নিতেই হয়, তাহলে যেন সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা, ভালোভাবে সাবান দিয়ে হাত ধোয়া, হাঁচি–কাশির সময় যথাযথ নিয়ম মানার অভ্যাসগুলো অব্যাহত রাখা হয়; সে পরামর্শ দিয়েছেন গবেষকেরা। কারণ তাঁরা মনে করেন, প্রতিষেধক আবিষ্কারের আগ পর্যন্ত এগুলোই পারে করোনাভাইরাসের আবার মহামারি আকারে ফিরে আসা রোধ করতে।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে