করোনাভাইরাস নিয়ে কথার লড়াইয়ে যুক্তরাষ্ট্র-চীন

0
131
বিশ্বজুড়ে করোনাভাইরাস বা কভিড-১৯ সংক্রমণের আতঙ্ক বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে কূটনৈতিক বাগ্‌যুদ্ধে জড়িয়ে পড়েছে দুই পরাশক্তি যুক্তরাষ্ট্র ও চীন। বাণিজ্যযুদ্ধের পর ভাইরাস নিয়ে এ দু’দেশের কথার লড়াই ক্রমেই জোরালো হচ্ছে। একদিকে যুক্তরাষ্ট্র করোনাভাইরাসকে ‘উহান ভাইরাস’ বলে অভিহিত করছে। পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় চীন বলেছে, যুক্তরাষ্ট্রের সেনারা ভাইরাসটি উহানে নিয়ে আসতে পারেন। খবর এএফপির।
চীনের হুবেই প্রদেশের রাজধানী উহানে প্রথম করোনাভাইরাস ছড়িয়ে পড়ে। এখন সেখানে ভাইরাস আক্রান্তের সংখ্যা ক্রমেই কমছে। তবে বিশ্বজুড়ে, বিশেষ করে ইউরোপে এ ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ছে ব্যাপকহারে। এমন পরিস্থিতিতে বৃহস্পতিবার চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ঝাও লিজিয়ান টুইটারে লিখেছেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের সেনারাও উহানে করোনাভাইরাস এনে থাকতে পারেন। এ ব্যাপারে মানুষকে সব তথ্য জানানো উচিত।’ এ অভিযোগের ব্যাপারে ঝাও তার টুইটার অ্যাকাউন্টে বেশকিছু লিঙ্ক শেয়ার করেছেন।
অপর এক টুইটে ঝাও একটি ভিডিও পোস্ট শেয়ার করেছেন। ভিডিওটি যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসে দেশটির রোগ প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্রের প্রধান রবার্ট রেডফিল্ডের একটি বক্তব্যের। ঝাও তার টুইটে লিখেছেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় সাড়ে তিন কোটি মানুষ ফ্লুতে আক্রান্ত হয়েছেন। মৃত্যু হয়েছে ২০ হাজার মানুষের। রেডফিল্ড জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের যে নাগরিকদের ফ্লুতে মৃত্যু হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে সন্দেহ করা হয়েছিল, পরে দেখা গেছে তাদের মৃত্যু হয়েছে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে। ঝাওয়ের দাবি, যুক্তরাষ্ট্রকে এ ব্যাপারে জবাবদিহি করতে হবে।’
ঝাওয়ের এসব বক্তব্য নিয়ে চীনের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম উইবোতে ব্যাপক আলোচনা হচ্ছে। শিকাগো বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজনীতি বিজ্ঞানের অধ্যাপক দালি ইয়াং মনে করেন, ঝাও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে যে তথ্য দিচ্ছেন তাতে চীনের সরকারের প্রচ্ছন্ন সমর্থন রয়েছে। ভাইরাস মোকাবিলা করতে গিয়ে দেশটির সরকার যে চরম সমালোচনার মুখে পড়েছে। তা থেকে নজর ঘোরাতেই এমনটা করা হচ্ছে বলে মনে করেন অধ্যাপক দালি। চীনে করোনাভাইরাসের সংক্রমণে তিন হাজার ১শ’র বেশি মানুষ মারা গেছেন।
চীনকে রাগিয়ে তোলার পেছনে যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকাও কম না। উহান থেকে ছড়ানোর ‘তত্ত্ব’ দিয়ে ওয়াশিংটন করোনাভাইরাসের নাম দিয়েছে ‘উহান ভাইরাস’। যদিও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বারবার সতর্ক করে বলেছে, কোনো রোগ ছড়ানোর জন্য নির্দিষ্ট অঞ্চলকে দায়ী করা যাবে না। তার পরও যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও ভাইরাসটিকে ‘উহান ভাইরাস’ বলে উল্লেখ করেছেন। বেইজিং এ ধরনের মন্তব্যকে ‘বিজ্ঞানের অবমাননা’ বলে উল্লেখ করে ক্ষোভ প্রকাশ করেছে। দেশটির দাবি, বিশ্বের যে কোনো জায়গা থেকে ভাইরাস ছড়াতে পারত।
বুধবার যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প টেলিভিশনে জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেন। ভাইরাসের সংক্রমণ এড়াতে তিনি যুক্তরাজ্য ছাড়া ইউরোপের সব দেশ থেকে যুক্তরাষ্ট্রে সব ধরনের ভ্রমণ নিষিদ্ধ করেন। সে ভাষণ দেওয়ার সময় ট্রাম্প আরও বলেন, করোনাভাইরাস চীন থেকে বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা রবার্ট ও’ব্রেইন একই দিনে ভাইরাসটি উহান থেকে ছড়িয়েছে বলে মন্তব্য করেন।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে