করোনাকে পুঁজি করে জঙ্গি রিক্রুটের চেষ্টা

১৯ জনকে ধরার পর বেরিয়ে এলো তথ্য

0
106
সৈয়দ মুশতাক মোহাম্মদ আরমান খান

‘করোনার দুর্যোগে আকাশ থেকে গজব নেমে আসবে এবং সমস্ত কিছু ধোঁয়াচ্ছন্ন হয়ে যাবে, চল্লিশ দিন সূর্য উঠবে না, কাফিররা সবাই মারা যাবে, ইমানদারদের শুধু হালকা কাশি হবে। তখন হিজরত করতে হবে।’

করোনাকে পুঁজি করে এভাবেই নিজের দলে জঙ্গিদের ভিড়ানোর চেষ্টা করেছিলেন সৈয়দ মুশতাক মোহাম্মদ আরমান খান নামের একজন ইঞ্জিনিয়ার। তার আহ্বানে ১৯ অনুসারী জিহাদের জন্য সৌদিতে হিজরতের উদ্দেশ্যে বেরিয়েও যান। শেষ পর্যন্ত তারা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে ধরা পড়লে বেরিয়ে আসে ওই ইঞ্জিনিয়ারের বিস্তারিত পরিচয়।

কাউন্টার টেররিজম ইউনিট সূত্র জানায়, মুশতাক মোহাম্মদ আরমান খান এক সময় বুয়েটের ছাত্র ছিলেন। মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে পাস করেন সেখান থেকে। রাজধানীর একটি নাম করা বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করলেও নিয়মিত তাবলিগ করতেন। একপর্যায়ে টঙ্গীতে গড়ে তোলেন মাদ্রাসা। ২০১৭ সালে পুরো পরিবার নিয়ে চলে যান সৌদিতে। এর পরই সেখানে বসে নিজেকে ইমাম মাহাদির অন্যতম সৈনিক পরিচয় দিয়ে ইউটিউবে নানা ভিডিও ছড়াতে থাকেন। যাতে তিনি জিহাদের জন্য সৌদিতে ‘মুজাহিদ’দের যাওয়ার আহ্বান জানান। করোনার এই সময় কীভাবে জিহাদের জন্য যেতে হবে সেই বিষয়েও কথিত নির্দেশনা দেন তিনি।

ঢাকার কাউন্টার টেররিজম ইউনিটের কর্মকর্তারা বলছেন, এরা জেএমবির আদলে তাদের কার্যক্রম চালাচ্ছে। গ্রেপ্তার হওয়া ১৯ জনকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে বেশকিছু তথ্য মিলেছে। কয়েকজন আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়ে বলেছে সৌদিতে অবস্থানকারী ইঞ্জিনিয়ারের নির্দেশেই হিজরতে বেরিয়েছিলেন তারা।

কাউন্টার টেররিজম ইউনিটের উপ-কমিশনার সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘সৌদিতে অবস্থানকারী ইঞ্জিনিয়ার মুশতাক নিজেকে ইমাম মাহাদির অন্যতম সৈনিক দাবি করে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছিলেন। ঢাকায় গ্রেপ্তার তার ১৯ অনুসারীকে জিজ্ঞাসাবাদে আরও কিছু তথ্য মিলেছে। তারা নিজেদের জেএমবির অনুসারী বলেও জানিয়েছে। এরই মধ্যে ওই ইঞ্জিনিয়ারের বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য চাওয়ার পাশাপাশি তাকে নজরদারিতে রাখার জন্য সৌদি সরকারকে অবহিত করার উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে।’ কাউন্টার টেররিজম ইউনিটের আরেক কর্মকর্তা জানান, এর আগেও ইঞ্জিনিয়ার মুশতাকের আহ্বানে সাড়া দিয়ে ময়মনসিংহ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের চার শিক্ষার্থীসহ ১১ জন ঘর ছেড়ে সৌদি চলে গেছে। ওই ইঞ্জিনিয়ার আপাতত ইমাম মাহাদি বিষয়ে প্রচার চালালেও সত্যিকার অর্থেই তিনি কোন মতাদর্শী এবং আন্তর্জাতিক কোনো গোষ্ঠীর সঙ্গে তার যোগাযোগ রয়েছে কিনা তা যাচাই করা হচ্ছে।

ঢাকা থেকে ইঞ্জিনিয়ারের ১৯ অনুসারীকে গ্রেপ্তার অভিযানে নেতৃত্ব দেওয়া কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিটের এডিসি তৌহিদুল ইসলাম বলেন, ‘সৌদিতে অবস্থানকারী ইঞ্জিনিয়ার মুশতাক জিহাদের পক্ষে ইমাম মাহাদি সৈনিক হিসেবে বিভিন্ন বক্তব্য এবং গাজওয়াতুল হিন্দ নামক স্থানে মুসলিমদের পক্ষে জিহাদ করার আহ্বান জানিয়ে অডিও-ভিডিও প্রকাশ করেন। তার এসব বক্তব্যে উদ্বুদ্ধ হয়ে যুদ্ধের প্রস্তুতি স্বরূপ সৌদি আরব যাওয়ার চেষ্টা করেন গ্রেপ্তারকৃত ১৯ জন। এরা তাবলিগ জামায়াতের আড়ালে সাতক্ষীরা বা বেনাপোল সীমান্ত দিয়ে ভারত-কাশ্মীর সীমান্ত হয়ে সৌদি পৌঁছানোর পরিকল্পনা করেছিল।

গত ১৮ মার্চ তারা প্রথমে সাতক্ষীরা ও পরে যশোর সীমান্তের কাছে বিভিন্ন মসজিদে অবস্থান করেন ভারতে যাওয়ার জন্য। কিন্তু ইঞ্জিনিয়ার মুশতাকের কথা অনুযায়ী আকাশ অন্ধকার না হওয়ায় যেতে পারেননি। এরপর ঢাকা ফিরে গ্রেপ্তার হন তারা। তিনি বলেন, এখন পর্যন্ত তাদের কাছ থেকে ৯টি পাসপোর্ট জব্দ করা গেছে। এগুলো গত বছরের ডিসেম্বর থেকে চলতি বছরের মার্চের শুরুর দিকে ইস্যু করা হয়। এসব বিষয়ে খোঁজ নেওয়া হচ্ছে।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে