করোনাকালে চিকিৎসক দম্পতির নিরলস সেবা

0
103
সুজাউদ্দৌলা রুবেল ও সাজেদা বেগম

চাঁদপুরে করোনা রোগীদের নিরলসভাবে সেবা দিয়ে যাচ্ছেন চিকিৎসক দম্পতি সুজাউদ্দৌলা রুবেল ও সাজেদা বেগম। দৃষ্টান্তমূলকভাবে কাজ করার জন্য স্বাস্থ্য বিভাগের চট্টগ্রাম বিভাগীয় পরিচালক ইতিমধ্যে সাজেদা বেগমকে করোনাযুদ্ধে চাঁদপুরের ‘জেনারেল’ পদে ভূষিত করেছেন।

প্রতিদিনই চাঁদপুরে করোনা আক্রান্ত রোগী বাড়ছে। সিভিল সার্জন অফিসের তথ্যমতে, এ পর্যন্ত চাঁদপুরে করোনা রোগী শনাক্ত করা হয়েছে ৪৮ জন। আরও নমুনা পরীক্ষা চলছে। জেলা প্রশাসনের তথ্যমতে, করোনা রোগীদের সেবায় পুরো জেলায় সরকারি–বেসরকারি ২৪৭ জন চিকিৎসক আছেন।

সাজেদা চাঁদপুর সদরের উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা হিসেবে কর্মরত। তাঁর স্বামী সুজাউদ্দৌলা ২৫০ শয্যা চাঁদপুর সরকারি জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও)। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ সুজাউদ্দৌলাকে করোনাবিষয়ক ফোকাল পারসন এবং মেডিকেল টিমের প্রধান হিসেবে মনোনীত করেছে।

সুজাউদ্দৌলা বলেন, করোনা ঝুঁকি জেনেও তিনি সদর সরকারি হাসপাতালের নিয়মিত কাজের পাশাপাশি চিকিৎসা নিতে আসা করোনা সন্দেহভাজন রোগীদের চিহ্নিত করে নমুনা সংগ্রহের ব্যবস্থা করেন। তাঁদের প্রাথমিক ব্যবস্থাপত্র দেওয়া, শনাক্ত হওয়া রোগীদের হাসপাতাল অথবা বাসার জন্য ব্যবস্থাপত্র দেওয়া, আইসোলেশনে চিকিৎসাধীন রোগীদের বাড়তি নজরে রাখা, মৃত ব্যক্তির ময়নাতদন্তের কাজ করছেন।

সাজেদা বেগম বলেন, চিকিৎসাসেবা দেওয়ার ক্ষেত্রে তাঁর নির্দিষ্ট কোনো হাসপাতাল নেই। তবে করোনায় আক্রান্ত বা উপসর্গ নিয়ে মারা যাওয়া লোকের বিশেষ ব্যবস্থায় দাফন করা এবং প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে সন্দেহভাজন ব্যক্তির বাড়ি টিম পাঠিয়ে নমুনা সংগ্রহের ব্যবস্থা করা এবং সন্দেহভাজন, আক্রান্ত, মৃতের বাসাবাড়ি লকডাউন করার কাজ তিনি করে যাচ্ছেন। এর পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘কোডিভ-১৯’ নামে একটি ফেসবুক পেজ খুলে সেখানে প্রতিদিন ভিডিও লাইভের মাধ্যমে করোনা বিষয়ে তথ্য, পরামর্শ দিচ্ছেন। সেখানে মানুষের বিভিন্ন প্রশ্নের সরাসরি জবাব দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকেরা। এ ছাড়া ২৪ ঘণ্টা মোবাইলের মাধ্যমে করোনাবিষয়ক টেলিমেডিসিন সেবা দিচ্ছেন।

সুজাউদ্দৌলা বলেন, ‘আমরা দুজন শুধু চাকরির জন্য নয়, মানবিক কারণে কাজটি করে যাচ্ছি। মাঝেমধ্যে খারাপ লাগে, ক্লান্তিও আসে। কিন্তু পরে করোনাযুদ্ধের প্রহরী মনে করে আবার এগিয়ে যাই।’

চাঁদপুরের সিভিল সার্জন মো. সাখাওয়াত উল্লাহ বলেন, এই চিকিৎসক দম্পতি করোনা রোগীর চিকিৎসাসেবা, নমুনা সংগ্রহ ও সচেতনতায় শুরু থেকে সক্রিয় রয়েছেন। ৬ মে চট্টগ্রাম বিভাগের ১৪ জন স্বাস্থ্য কর্মকর্তাকে করোনাযুদ্ধের জেনারেল উপাধি দেওয়া হয়েছে। তাঁদের মধ্যে সাজেদা বেগম আছেন। তাঁরা অন্যদের কাছে উদাহরণ।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে