কক্সবাজারে উত্তাল সাগরের গর্জন শুনে সময় কাটাচ্ছেন পর্যটকেরা

0
200
বালুচর থেকে সাগরের গর্জন উপভোগ করছেন পর্যটকেরা। ছবিটি আজ রোববার সকালে কক্সবাজার সৈকতের কলাতলী পয়েন্ট থেকে তোলা।

ঘূর্ণিঝড় ‘বুলবুল’ আতঙ্ক কেটে গেছে। উপকূলবাসীর মনে ফিরেছে স্বস্তি। তবে ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে বঙ্গোপসাগরের গর্জন থামছে না। গভীর সাগর থেকে আসা বড় বড় ঢেউ আছড়ে পড়ছে কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতে।

সতর্কসংকেত থাকায় পর্যটকেরা সাগরে গোসলের জন্য নামতে পারছেন না। নামতে গেলেই আসছে বাধা, বাজছে বাঁশি। তাই বাধ্য হয়ে বালুচরে দাঁড়িয়ে কিংবা চেয়ারে বসে পর্যটকেরা সাগরের গর্জন উপভোগ করছেন।

আজ রোববার ভোর পাঁচটা থেকে কক্সবাজারে হালকা বৃষ্টি হয়। সকাল নয়টার দিকে বৃষ্টি থেমে উঁকি দেয় সূর্য। এ সময় বিপুলসংখ্যক পর্যটক হোটেল-মোটেল থেকে নেমে পড়েন সৈকতে। অনেকে দৌড়ঝাঁপ শুরু করেন। কিন্তু টুরিস্ট পুলিশ ও লাইফগার্ড কর্মীদের বাধায় তাঁরা কেউ সমুদ্রের পানিতে নামতে পারেননি।

সকাল সাড়ে ১০টার দিকে হঠাৎ মেঘে ঢেকে যায় আকাশ। ঢাকা পড়ে সূর্য। কিছুক্ষণ পর শুরু হয় ভারী বৃষ্টি। সঙ্গে দমকা হাওয়া। এ সময় অধিকাংশ পর্যটক দৌড়ে আশ্রয় নেন হোটেল-মোটেলে। কিছু পর্যটক বালুচরে বৃষ্টিতে ভিজে আনন্দ উপভোগ করেন। কেউ বিচ বাইকে চড়েন। কেউ কেউ ঘোড়ার পিঠে চড়ে ঘোরেন সৈকতে। দুপুর ১২টায় কালো মেঘ কেটে যায়। আবার উঁকি দেয় সূর্য।

সকাল আটটায় সৈকতের কলাতলী পয়েন্টে দেখা যায়, কয়েক শ পর্যটক বালুচরে দাঁড়িয়ে উত্তাল সমুদ্রের গর্জন শুনছেন। কেউ হাঁটুপানিতে নেমে আনন্দ উল্লাস করছেন। দ্রুত লাইফগার্ড কর্মীরা গিয়ে তাঁদের ঘূর্ণিঝড় বুলবুলের কথা বলে সাগর থেকে উঠে আসার পরামর্শ দেন।

আজ সকাল ১০টার দিকে স্থানীয় আবহাওয়া অধিদপ্তর কক্সবাজারে ৪ নম্বর হুঁশিয়ারি সংকেত নামিয়ে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্কসংকেত দেখাতে বলেছে।

সৈকতে উদ্ধার তৎপরতায় নিয়োজিত বেসরকারি সংগঠন ‘সি সেইফ’-এর কয়েকজন লাইফগার্ড কর্মী বলেন, সকাল ১০টা পর্যন্ত ৭-৮ ঘণ্টায় এই সৈকতে অন্তত ৬০০ পর্যটক নেমেছেন। উত্তাল সমুদ্রের গর্জন উপভোগ করা ছাড়া তাঁরা তেমন কিছু করতে পারছেন না। সাগরে গোসল করতে না পেরে অনেকে হতাশ হয়েছেন।

বালুচর থেকে সাগরের গর্জন বালুচর থেকে সাগরের গর্জন উপভোগ করছেন পর্যটকেরা। ছবিটি আজ রোববার সকালে কক্সবাজার সৈকতের কলাতলী পয়েন্ট থেকে তোলা।

রাজধানীর সূত্রাপুর থেকে আসা ব্যবসায়ী আবদুল মোতালিব (৪৭) বলেন, পরিবারের পাঁচ সদস্য নিয়ে তিনি ৮ নভেম্বর কক্সবাজার আসেন। আজ রোববার সকালে তাঁদের টেকনাফ হয়ে সেন্ট মার্টিন ভ্রমণে যাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু ঘূর্ণিঝড় বুলবুলের কারণে প্রশাসন পর্যটকবাহী জাহাজ চলাচল বন্ধ রাখে। এ কারণে তাঁদের সেন্ট মার্টিন যাওয়া হয়নি।

আবদুল মোতালিব বলেন, ‘এখন সমুদ্রের উত্তাল রূপ আর তীব্র গর্জন উপভোগ করেই সময় পার করছি।’

সৈকতের সুগন্ধা পয়েন্ট, সি গাল পয়েন্ট, লাবণী পয়েন্টেও দেখা মেলে আরও কয়েক শ পর্যটকের।

ট্যুর অপারেটর অ্যাসোসিয়েশন অব কক্সবাজার (টুয়াক) সভাপতি তোফায়েল আহমেদ বলেন, ঘূর্ণিঝড়ের কারণে সেন্ট মার্টিনে আটকা পড়েছেন হাজারো পর্যটক। তিন দিন ধরে তাঁরা সেখানে নিরাপদে রয়েছেন। বৈরী পরিবেশের কারণে কক্সবাজারের বিভিন্ন হোটেল-মোটেলে থাকা কয়েক হাজার পর্যটক বাড়ি ফিরে যেতে শুরু করেছেন। কারণ পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে আরও কয়েক দিন লেগে যেতে পারে। এ সময়ে কক্সবাজার ভ্রমণে আসা পর্যটকদের অনেকে সেন্টমার্টিন ভ্রমণের উদ্দেশ্যে আসেন বলে জানান তিনি।

টুয়াকের উপদেষ্টা মুফিজুর রহমান বলেন, ১ নভেম্বর থেকে টেকনাফ-সেন্ট মার্টিন নৌপথে পর্যটকবাহী প্রমোদতরির চলাচল শুরু হয়েছে। কিন্তু ঘূর্ণিঝড়ের কারণে পর্যটকেরা সেন্ট মার্টিনের পাশাপাশি সাগরদ্বীপ মহেশখালী, সোনাদিয়া ভ্রমণে যেতে পারছেন না। অনেকে ভ্রমণ সংক্ষিপ্ত করে বাড়ি ফিরছেন। তিনি বলেন, সমুদ্র শান্ত না হলে সেন্ট মার্টিনে আটকে পড়া পর্যটকদের টেকনাফে ফিরিয়ে আনার বিকল্প ব্যবস্থা নেই।

সৈকত ভ্রমণে আসা পর্যটকদের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা টুরিস্ট পুলিশ কক্সবাজারের সহকারী পুলিশ সুপার মো. ফখরুল ইসলাম বলেন, ঘূর্ণিঝড় বুলবুল থেকে কক্সবাজার শঙ্কামুক্ত হলেও তার প্রভাবে সাগর প্রচণ্ড উত্তাল রয়েছে। এ কারণে গতকাল শনিবার থেকে সাগরে নেমে গোসল করা বন্ধ রাখা হয়েছে। তবে দিনের বেলায় জোয়ারের সময় পর্যটকদের হাঁটুপানিতে নেমে আনন্দ করার সুযোগ দেওয়া হচ্ছে। টুরিস্ট পুলিশের শতাধিক সদস্যসহ বিপুলসংখ্যক লাইফগার্ডকর্মী ও জেলা প্রশাসনের স্বেচ্ছাসেবীরা সৈকতে দাঁড়িয়ে এসব তদারকি করছেন।

জেলা প্রশাসক মো. কামাল হোসেন বলেন, দুর্যোগকালীন পরিস্থিতিতে সাগরে নেমে গোসল করলে প্রাণহানির আশঙ্কা থাকে। তাই জীবন রক্ষার স্বার্থে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত নিষেধাজ্ঞা জারি রয়েছে।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে