ওই বল খেলার মতো কেউ নেই ক্রিকেট দুনিয়ায়

0
482
দুই দিন পেরিয়ে গেছে, মালিঙ্গার বলটি এখনো বিস্ময় জাগাচ্ছে। ছবি: এএফপি

শুক্রবার প্রথম ওয়ানডেতে দুর্দান্ত এক ইয়র্কারে তামিম ইকবালকে বোল্ড করেন লাসিথ মালিঙ্গা। নিজের শেষ ম্যাচে মালিঙ্গার এই ডেলিভারি বিস্ময় ছড়িয়েছে। বাংলাদেশের শ্রীলঙ্কান বোলিং কোচ চাম্পাকা রমানায়েকের মতে, ওই বলটি খেলতে পারত এমন কেউ নেই ক্রিকেট দুনিয়ায়।

দুর্দান্ত এক বল, নিখুঁত এক ইয়র্কার। স্ট্যাম্প সোজা এগিয়ে এসে একদম শেষ মুহূর্তে বাঁক নিল। সর্বোচ্চ চেষ্টা করেও ব্যাটে বলের ছোঁয়া নিতে পারলেন না তামিম ইকবাল। ব্যাটের নিচ দিয়ে বিশাল এক ফাঁক সৃষ্টি করে স্ট্যাম্প ভেঙে দিল সে বল। মাটিতে উপুড় হয়ে পড়া তামিমকে পাশ কাটিয়ে উচ্ছ্বাসে মেতে উঠল পুরো শ্রীলঙ্কা দল।

গ্যালারিতে গর্জন তোলা এমন এক বল দিয়েই নিজের শেষ আন্তর্জাতিক ওয়ানডেটা শুরু করেছেন ‘মালি’। এমন এক বলই করেছেন বিদায় মঞ্চে যে ‘কেন বিদায় নিচ্ছেন? ’, সে প্রশ্নটা আবার জাগল। বাংলাদেশ দলের ভারপ্রাপ্ত বোলিং কোচ চাম্পাকা রমানায়েকে বলছেন বিশ্বের কোনো ব্যাটসম্যানের পক্ষেই সম্ভব ছিল না এ বল আটকানো।

আজ তাজ সমুদ্রে নিজের সবচেয়ে প্রিয় ছাত্র মালিঙ্গাকে নিয়ে প্রশ্ন করতেই উজ্জ্বল হয়ে উঠেছিল তাঁর মুখ। তামিমকে আউট করা সে বলের প্রসঙ্গে হেসেই ফেললেন, , ‘না, সম্ভব না। এ বল কেউ ঠেকাতে পারত না। তামিম আউট হয়ে এসে বলল, কোচ কী করব বলেন, একদম নিখুঁত ইয়র্কার। নিচু হয়ে শেষে সুইং করল। আসলেই এ বল খেলা যায় না।’

মালিঙ্গা স্তুতি এখানেই থামেনি চাম্পাকার, ‘এই কাজ সে করেছে ৩৬ বছর বয়সে এসে। বিশ্বে অন্য কোনো বোলার এ বল করতে পারবে না ৩৬ বছর বয়সে এসে। মালিঙ্গা পেরেছে কারণ সে অনন্য। এই বয়সে হোক বা প্রথম ম্যাচে সে একটি পরিকল্পনা নিয়ে নামে। সে বাসা থেকেই ঠিক করে রাখে আজ ইয়র্কার দেব, এবং সেটা সে করে। যেদিন যে পরিকল্পনা সে অনুযায়ী অনুশীলন করে।।’

মালিঙ্গার বিশেষত্ব এখানেই, অনুশীলন ও পরিশ্রম করে নিজেকে এতটাই নিখুঁত বানিয়েছেন যে সবাই তাঁর পরিকল্পনা জেনেও আটকাতে পারেন না। সেদিন ম্যাচ শেষে তামিমও বলেছিলেন কতটা অসহায় হয়ে গিয়েছিলেন সে বলে, ‘শুধু আমি না, সবাই জানত সে ইয়র্কার দিতে যাচ্ছে। কিন্তু এমন কিছু বল আছে যখন আপনি কিছুই করতে পারবেন না। আমার আউটটা দেখেন, ওই বলটা একদম শেষ মুহূর্তে সুইং করেছে। তখন আসলে কী করা যায়? আমি আমার সর্বোচ্চ করেছি। তৃতীয় বলটাও ইয়র্কার ছিল। খুব ভালো ইয়র্কার ছিল, সেটাও ভালোভাবেই খেলেছিলাম। কিন্তু এর পরেরটা আমার জন্য একটু বেশিই ভালো ছিল। এ বলে আমাকে হার মেনে নিতেই হয়েছে।’

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.