এ বয়সে কি পারবেন হুয়াওয়ের সিইও?

0
245
হুয়াওয়ে প্রতিষ্ঠাতা রেন ঝেংফেই। ছবি: রয়টার্স

৭৫ বছর বয়সী হুয়াওয়ের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রেন ঝেংফেই অবসর নিয়ে ফেলার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। কিন্তু মার্কিন চাপের মুখে পড়া হুয়াওয়েকে উদ্ধার করার জন্য সে সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসেছেন তিনি। সম্প্রতি লাতিন আমেরিকা ও স্পেনের গণমাধ্যমে দেওয়া সাক্ষাৎকারে এমন কথা বলেছেন তিনি। ওই সাক্ষাৎকারে লাতিন আমেরিকায় ৫–জি উন্নয়ন, হুয়াওয়ের হংমেং অপারেটিং সিস্টেম ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে সাময়িক লাইসেন্স পাওয়ার মতো বিষয়গুলো নিয়ে কথা বলেছেন হুয়াওয়ের প্রতিষ্ঠাতা।

রেন ঝেংফেই বলেন, তিনি অবসরে যাওয়ার প্রক্রিয়ায় ছিলেন। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের ক্রমবর্ধমান চাপ তাঁকে কাজ চালিয়ে যাওয়ার অনুপ্রেরণা দিচ্ছে। তিনি এ চ্যালেঞ্জ নিতে চান।

সেনাবাহিনীর সাবেক প্রকৌশলী হিসেবে কাজ করার পর ১৯৮৭ সালে মাত্র পাঁচ হাজার মার্কিন ডলার পকেটে নিয়ে হুয়াওয়ে প্রতিষ্ঠা করেছিলেন রেন। হুয়াওয়ের দাবি, বিশ্বের ১৭০টি দেশে তাদের কার্যক্রম রয়েছে এবং কর্মীসংখ্যা ১ লাখ ৯০ হাজার। ২০১৮ সালে তাদের রাজস্ব ছিল ১০০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার।

স্পেনের গণমাধ্যমে দেওয়া সাক্ষাৎকারে রেন বলেছেন, স্পেনে চালু করা প্রথম ৫–জি ইউরোপের সর্বশ্রেষ্ঠ নেটওয়ার্ক হবে বলে মনে করেন তিনি। হুয়াওয়ে ইউরোপে একটি মডেল সৃষ্টি করবে। এ বিষয়ে তাঁরা আত্মবিশ্বাসী। এ ছাড়া লাতিন আমেরিকায় তাঁদের টেলিফোনিকার সঙ্গে সহযোগিতা চুক্তি রয়েছে। তাঁরা টেলিফোনিকাকে লাতিন আমেরিকায় ৫–জি উন্নয়নে সহায়তা করবেন।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে সীমিত সময়ের জন্য হুয়াওয়ের ব্যবসার জন্য লাইসেন্স বাড়ানো প্রসঙ্গে রেন বলেন, এ বিষয়টি হুয়াওয়ের ওপর কোনো প্রভাব ফেলবে না। হুয়াওয়ের হংমেং অপারেটিং সিস্টেম বিষয়ে তিনি বলেন, এটা উন্মুক্ত বা ওপেন সোর্স সিস্টেম। প্রতিটি দেশ এটি ব্যবহার করতে পারবে। প্রত্যেকের জন্য এ প্ল্যাটফর্ম উন্নয়ন করার সুযোগ রয়েছে। এ ছাড়া হুয়াওয়ের ডিপ লার্নিং ক্লাস্টার সংসান লেক রয়েছে। বিভিন্ন দেশে এ ক্লাস্টার বিক্রি করে হুয়াওয়ে। প্রতিটি দেশের নিজস্ব ডিজিটাল সার্বভৌমত্বের ক্ষেত্রে সহযোগিতা করে থাকে হুয়াওয়ে।

চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্যযুদ্ধের কবলে পড়ে সবচেয়ে বেশি ভুগতে হচ্ছে হুয়াওয়েকে। মার্কিন প্রশাসন থেকে দাবি করা হচ্ছে, হুয়াওয়ের নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে চীন সরকার গুপ্তচরবৃত্তি চালাচ্ছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে। এটা সত্যি নয় বলে দাবি করেছেন রেন।

সম্প্রতি চীনে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে আলাপকালে রেন বলেছেন, চীনের হয়ে গুপ্তচরবৃত্তি করছে না হুয়াওয়ে। এমনকি চীনা সরকার থেকে বিশেষ অনুরোধ এলেও হুয়াওয়ে কখনো তাদের গ্রাহকদের তথ্য প্রদান করবে না। গ্রাহকদের সাইবার নিরাপত্তা এবং প্রাইভেসি সুরক্ষার ব্যাপারে সব সময় আমরা তাদের পাশে আছি। আমরা কখনোই কোনো জাতি অথবা ব্যক্তির ক্ষতি হয়—এমন কিছুই করব না।’

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে