এশীয় দেশগুলোকে কয়লার ব্যবহার বন্ধের আহ্বান জাতিসংঘ মহাসচিবের

0
372
সংবাদ সম্মেলনে জাতিসংঘ মহাসচিব-এএফপি

জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় এশিয়ার দেশগুলোকে কয়লার ব্যবহার বন্ধের আহ্বান জানিয়েছেন জাতিসংঘের মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেস।

শনিবার থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককে অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলনে  তিনি এ আহ্বান জানান।

সংবাদ সম্মেলনে জাতিসংঘ মহাসচিব বলেন, এই অঞ্চলের দেশগুলো বৈশ্বিক উষ্ণায়নের জন্য সবচেয়ে ঝুঁকির মধ্যে আছে। তাই এই সমস্যা মোকাবিলায় তাদেরকেই সবার আগে এগিয়ে আসতে হবে। খবর বিবিসির।

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব নিয়ে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে তিনি বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে বেশ কয়েকটি এশীয় দেশ বন্যার ঝুঁকিতে আছে। এসব দেশের মধ্যে অনেকগুলোর বিদ্যুতের প্রধান উৎস কয়লা।

গুতেরেস বলেন, জলবায়ু পরিবর্তন বর্তমান সময়ের সবচেয়ে বড় সংকট।

তিনি বলেন, বিশেষ করে এশীয়ার অবস্থা খুবই স্পর্শকাতর। এই অঞ্চলটিতে বেশকিছু কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ প্রকল্প রয়েছে। আরও কয়েকটি প্রকল্প স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে।

জাতিসংঘ মহাসচিব বলেন, কার্বন নিঃসরণ কমাতে আমাদের পদক্ষেপ নিতে হবে। জীবাশ্ম জ্বালানির ভর্তুকি দেওয়া বন্ধ করতে হবে। নতুন কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ প্রকল্প স্থাপনের পরিকল্পনা বাতিল করতে হবে।

গত মঙ্গলবার জলবায়ু পরিবর্তন নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক বেসরকারি সংস্থা ক্লাইমেট সেন্ট্রালএকটি গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশ করে। প্রতিবেদন অনুসারে, বিদ্যমান হারে জলবায়ু পরিবর্তন অব্যাহত থাকলে ২০৫০ সালের মধ্যে বিশ্বজুড়ে তীব্র বন্যার ঝুঁকিতে পড়বে ৩০ কোটি মানুষ। এর মধ্যে ২৩ কোটি ৭০ লাখই হবে এশীয়। ২১০০ সালের মধ্যে পানির নিচে তলিয়ে যাবে ৬৩ কোটি মানুষের বসতবাড়ি।

এশিয়ার মধ্যে সবচেয়ে ঝুঁকিতে রয়েছে চীন, ভারত, বাংলাদেশ, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া ও থাইল্যান্ড।

২০৫০ সালের মধ্যে চীনের ৯ কোটি ৩০ লাখ, বাংলাদেশের ৪ কোটি ২০ লাখ, ভারতের ৩ কোটি ৬০ লাখ, ভিয়েতনামের ৩ কোটি ১০ লাখ, ইন্দোনেশিয়ার ২ কোটি ৩০ লাখ ও থাইল্যান্ডের ১ কোটি ২০ লাখ মানুষ বন্যার শিকার হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.