‘এরা কি ভিসি না ওসি’

0
240
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে আন্দোলনরত শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার প্রতিবাদে আজ বুধবার দুপুরে রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধনে বক্তব্য দেন নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না।

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) উপাচার্যের পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের ওপর ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীদের হামলা ঘটনার প্রতিবাদে আয়োজিত মানববন্ধনে বক্তব্য দিয়েছেন নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না। সেখানে তিনি উপাচার্যের (ভিসি) উদ্দেশে বলেন, ‘এরা কি ভিসি না ওসি?’

আজ বুধবার দুপুরে রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে এক মানববন্ধনে মান্না এসব কথা বলেন।

মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, ‘এই রকম ঘটনা আজকাল প্রায় প্রতিদিন ঘটে। ছাত্রদের শুধু নয়, শিক্ষকের মর্যাদা আজ কীভাবে যে ভূলুণ্ঠিত, মানুষের সম্মান যে কীভাবে ভূলুণ্ঠিত, তা গত ১০ বছর ধরে দেখছি। সবচেয়ে বেশি নির্ভর করার জায়গা যে বিশ্ববিদ্যালয়, সে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে একেকজন উপাচার্য বসানো হয়েছে, এরা কি ভিসি না ওসি? এটা বোঝা মুশকিল।’

জাবি উপাচার্যের বিরুদ্ধে অভিযোগ পুরোনো উল্লেখ করে মান্না বলেন, ছাত্রলীগের অব্যাহতি পাওয়া সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক জানিয়েছিলেন যে বিশ্ববিদ্যালয়ের শাখা ছাত্রলীগকে উপাচার্য চাঁদা দিয়েছেন। তাঁর অধীনে শিক্ষার্থীরা কীভাবে শিক্ষিত হবেন, তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তিনি।

গত সোমবার সন্ধ্যা থেকে আন্দোলনকারীরা উপাচার্য ফারজানা ইসলামের বাসভবন অবরুদ্ধ করে রেখেছিলেন। গতকাল মঙ্গলবার সকালে ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা হামলা চালিয়ে আন্দোলনকারীদের সেখান থেকে হটিয়ে দেন। এ হামলায় অন্তত সাতজন শিক্ষকসহ ৩৫ জন আহত হন। হামলা চালিয়ে তাঁকে ‘মুক্ত’ করাকে ‘গণ-অভ্যুত্থান’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন উপাচার্য ফারজানা ইসলাম। তিনি বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। এর সমালোচনা করে মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, ‘গণ-অভ্যুত্থান মানে কি, এটা উনি জানেন না। অভ্যুত্থান উনি দেখেননি। জনতার অভ্যুত্থানকে উনি অপমান করেছেন। গুন্ডা গিয়ে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের আহত করেছে। উপাচার্য বলছেন, এটা অভ্যুত্থান। এর চেয়ে লজ্জার আর কিছু থাকে না।’

সরকারের শুদ্ধি অভিযান জাবি উপাচার্যের দিক যাওয়া উচিত ছিল জানিয়ে মান্না বলেন, গোপালগঞ্জের ভিসির মতো জাবি উপাচার্যকেও রাতের বেলা পালিয়ে যেতে হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যদের অনেকের বিরুদ্ধে অভিযোগ আছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘সবাই একেকটা টেন্ডারবাজ, লুটেরা, দুর্নীতিবাজ। দু-একজন ব্যতিক্রম থাকতে পারে। অধিকাংশ বিশ্ববিদ্যালয়ের টাকা লুটপাটের কাজে ব্যস্ত। অভিযোগ ওঠা কোনো উপাচার্যের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।’ তিনি জাবি উপাচার্যের পদত্যাগ দাবি করেন।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে