এখনও রহস্যঘেরা দুর্ঘটনার কারণ

0
156
দুর্ঘটনাকবলিত ভবন

চট্টগ্রামের পাথরঘাটার ব্রিক ফিল্ড রোডের বড়ুয়া ভবনে বিস্ফোরণের কারণ এখনও রহস্যঘেরা। প্রাথমিকভাবে গ্যাস লাইন বিস্ফোরণে এই দুর্ঘটনা হয়েছে বলে দাবি করা হলেও এটি মানতে নারাজ কর্ণফুলী গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের (কেজিডিসিএল)।

এরই মধ্যে এ ঘটনায় ফায়ার সার্ভিস, বিস্ফোরক অধিদফতর, পুলিশ, জেলা প্রশাসন ও সিটি করপোরেশন প্রতিনিধিদের নিয়ে গঠিত একাধিক তদন্ত কমিটি কাজ শুরু করেছে। জেলা প্রশাসন গঠিত তদন্ত কমিটি সোমবার ঘটনাস্থলে এসে আশপাশে থাকা প্রত্যক্ষদর্শীর সাথে কথা বলেছে। ঘটনায় আহতদের সাথে কথা বলতে হাসপাতালেও গেছেন তারা।

ঘটনা তদন্তে ও বিস্ফোরণের কারণ খতিয়ে দেখতে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট এজেএম শরিফুল হাসানকে প্রধান করে পাঁচ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিতে ফায়ার সার্ভিস, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন ও চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (সিডিএ) প্রতিনিধি এবং স্থানীয় ওয়ার্ড কাউন্সিলরকেও সদস্য হিসেবে রাখা হয়েছে।

এছাড়া চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশ তিন সদস্যের আরেকটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। যার নেতৃত্বে আছেন উপ-কমিশনার (দক্ষিণ) এসএম মেহেদী হাসান। আবার কেজিডিসিএল কর্তৃপক্ষ মহাব্যবস্থাপক প্রকৌশলী সারোয়ার হোসেনকে প্রধান করে পৃথক আরেকটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে।

জানা গেছে, রোববার দুর্ঘটনার পর পর  দুপুরে ও বিকেলে দুই দফা ঘটনাস্থল পরিদর্শন, আলামত সংগ্রহ, ছবি ও ভিডিও সংগ্রহ করেছেন করে কেজিডিসিএলের মহাব্যবস্থাপক  প্রকৌশলী সৈয়দ আবু নসর মো. সালেহ।

তিনি বলছেন, ‘কোনোভাবেই এটি গ্যাসলাইন লিকেজের অগ্নিকাণ্ড নয়। কারণ এখানে আগুনটা ছোট, বিস্ফোরণটা বড়।’ কথার স্বপক্ষে যুক্তি দিতে গিয়ে তিনি আরও বলেন, ‘দেখুন, চুলার ওপর পাতিল অক্ষত ছিল। সেই পাতিলে তরকারিও অক্ষত ছিল। দেয়ালে টাঙানো রশিতে ঝুলছে কাপড়। একটি প্লাস্টিক সামগ্রীও পোড়েনি। রান্নাঘরে গ্যাসের জিআই লাইনও অক্ষত। এমনকি দুই ঘরের মাঝখানের দেয়ালটিও অক্ষত। এসব কারণে অঅমরা নিশ্চিত এটি গ্যাস লাইন সংক্রান্ত বিস্ফোরণ নয়।’

সেপটিক ট্যাংক থেকে এই বিস্ফোরণ হতে পারে বলে ধারণা করছেন তারা। সালেহ বলেন, ‘আমরা দেখেছি সেপটিক ট্যাংকের ঢাকনা উড়ে গেছে। ওই ট্যাংক থেকেই বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে থাকতে পারে।’

তবে ফায়ার সার্ভিসের উপ-পরিচালক মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন বলেন, ‘গ্যাসলাইনের রাইজারটা ছিল মরিচায় ভরা, অনেক পুরনো। হতে পারে এ রাইজার থেকে গ্যাস লিক হয়ে বাসার কক্ষগুলোতে ছড়িয়ে গেছে। তা না হলে রোববার সকালে বাসার একজন সদস্য দিয়াশলাইয়ের (ম্যাচ) কাঠি জ্বালানোর পর পর কেন বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটলো। তদন্ত শেষে প্রকৃত কারণ জানা যাবে।’

সেপটিক ট্যাংক প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘সেটি আমরাও দেখেছি। কিন্তু সেটি একেবারে ভর্তি ছিল।’

জেলা প্রশাসন গঠিত তদন্ত কমিটির প্রধান অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট এজেএম শরিফুল হাসান বলেন, ‘এই মুহূর্তে কিছু বলতে চাইনা। তদন্ত শেষে দুর্ঘটনার কারণ জানাবো।’

প্রসঙ্গত, রোববার নগরীরর পাথরঘাটার বড়ুয়া ভবনে বিস্ফোরণের ঘটনায় নারী শিশুসহ ৭ জন নিহত হয়েছেন। এতে ৯ জন আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে