একেই বলে বিয়ে-ভাগ্য

0
35
এই মেদভেদেভ আগের মেদভেদেভ নন

এই দেশে এমন একটা মিথ প্রচলিত আছে বহুদিন ধরে। অনেকে মনে করেন, বিয়ের পর ভাগ্যটা আরও বেশি সুপ্রসন্ন হয়। কারও কারও ক্ষেত্রে কপালও নাকি খোলে। ইউরোপ মুল্লুকেও কি তাই? সবাই বিশ্বাস করুক বা না করুক, ইউএস ওপেনের বর্তমান চ্যাম্পিয়ন দানিল মেদভেদেভ ঠিকই করেন। তিনি বলছেন, বিয়ের পরই টেনিসে তার উন্নতিটা হয়েছে ঝড়ের গতিতে। কেবল বিশ্বাস নয়, বাস্তবেও তাই।

দীর্ঘদিনের বান্ধবী দারিয়ার সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হওয়ার আগে এই দানিলকে কেউই চিনত না। সেটা ২০১৮ সালের আগের কথা। তখন টেনিসে দানিলের অবস্থান র‌্যাঙ্কিংয়ে ৬৫ নম্বর। এরপর তরতর করে তিনি হয়ে যান তারকা। জেতেন মেজর ট্রফি। এখন তো গ্র্যান্ডস্লাম উইনার। আর র‌্যাঙ্কিং দুইয়ে। বিষয়টি নিজ মুখেই স্বীকার করেছেন দানিল, ‘বিয়ের প্রস্তাবটা পাওয়ার আগে আমি ছিলাম ৬৫তম এরপর দশ মাসের মধ্যে বড় দুটি ট্রফি জিতি, সঙ্গে র‌্যাঙ্কিংয়ে দশ নম্বরে চলে আসি।’

মেদভেদেভের শৈশবটা ছিল একেবারে ভিন্ন; বলা যায় টেনিসবিহীন। বেশ ভালো ছাত্র ছিলেন তিনি। মস্কোতে জন্ম নেওয়া দানিলের বাবা একজন কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ার, যিনি কিনা নিজেই সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং নিয়ে ব্যবসা শুরু করেন। দানিলের বয়স যখন নয় বছর তখন তার মা একটি বিজ্ঞাপন দেখে টেনিসের প্রতি আগ্রহ জন্মে। দানিলকে সেখানে নিয়ে যান তিনি। শুরুর দিকে দানিলের টেনিস গুরু ছিলেন একতারিনা। তবে দানিলের টেনিসের প্রতি তেমন টান ছিল না। তিনি অবসরে গিটার নিয়ে ব্যস্ত থাকতেন। আর পড়াশোনা বিজ্ঞান বিভাগে করায় অঙ্ক করতে বেশ স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করতেন। পদার্থবিদ্যায়ও তার আগ্রহ ছিল। সহপাঠীদের কেউ কেউ তাকে গণিতের মাস্টার বলেও ডাকতেন। সেই মাস্টার এখন হয়ে গেলেন টেনিসের অন্যতম মাস্টার!

হয়তো গত কয়েক বছর অনেক বেশি দানিলকে সংগ্রাম করতে হয়েছে। বারবার কাছে গিয়েও হোঁচট খেতে হয়েছে, তবু আশাহত হননি। দেরিতে হলেও মিলেছে তার ফল। ইউএস ওপেনের ফাইনালে নাম্বার ওয়ান নোভাক জকোভিচের স্বপ্ন চুরমার করে ক্যারিয়ারের প্রথম গ্র্যান্ডস্লাম জিতে নেন। জকোর জন্য এমন সুযোগ আর আসবে কিনা কে জানে। এক ক্যালেন্ডার ইয়ারে চার-চারটি গ্র্যান্ডস্লাম জেতা চাট্টিখানি কথা নয়। জকো ছিলেন সেই দরকার সামনে; কিন্তু দানিলের জন্য পারেননি গন্তব্যে যেতে।

২০১৪ সালে দানিলের পেশাদার ক্যারিয়ার শুরু হয়। প্রথম কয়েক বছর দিনি কোর্টে কয়েক রাউন্ড খেলেই বিদায় নিতেন। তাতে অবশ্য অভিজ্ঞতা বাড়তে থাকে তার। পর্যায়ক্রমে উন্নতিও করেন। এ বছর অস্ট্রেলিয়ান ওপেনের ফাইনাল থেকে ফেরেন। এরপর ফ্রেঞ্চ ওপেনের কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠেন। উইম্বলডনে চতুর্থ রাউন্ড থেকে নেন বিদায়। অবশেষে ফ্রেঞ্চ ওপেনে এলো আরাধ্যের ট্রফি। সেটা বিয়ে-ভাগ্য হোক আর যা-ই হোক; এই মেদভেদেভ আগের মেদভেদেভ নন।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে