‘এই উপাচার্যকে বরখাস্ত করা উচিত’

0
134
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ফারজানা ইসলাম

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধের সিদ্ধান্তকে অমান্য করে উপাচার্য ফারজানা ইসলামকে অপসারণের দাবিতে বিক্ষোভ-সমাবেশ করছেন শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। বিক্ষোভ সমাবেশে ‘ব্যর্থ’ ও ‘দুর্নীতিগ্রস্ত’ উপাচার্যকে বরখাস্ত করার জন্য আচার্যের প্রতি আহ্বান জানান শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা।

আজ বুধবার সকাল থেকে শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা প্রশাসনিক ভবন থেকে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বের করে দেন। সকাল সাড়ে ১০টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের মুরাদ চত্বর থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করেন তাঁরা।

উপাচার্যকে অপসারণের দাবি, আন্দোলনকারীদের ওপর ছাত্রলীগের হামলা ও বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধের সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ চলছে। মিছিলটি মেয়েদের হলের দিকে যায়। সেখানে মেয়েদের হলের তালা খুলে ছাত্রীদেরকে বের হয়ে আসতে দেখা যায়। এরপর ছাত্র-ছাত্রীদের মিছিলটি পুরোনো প্রশাসনিক ভবনের সামনের ‘উপাচার্য অপসারণ মঞ্চে’ গিয়ে শেষ হয়।

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের বাসভবনের সামনে সংঘর্ষ।

দুপুর ১২টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের পুরোনো প্রশাসনিক ভবনের সামনে উপাচার্যের অপসারণ দাবি, ছাত্রলীগের মারধর ও বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধের সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে সংহতি সমাবেশ শুরু হয়। বেলা পৌঁনে দুইটায় এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত সমাবেশ চলছে।

সমাবেশে অংশ নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের কলা ও মানবিকী অনুষদের ডিন অধ্যাপক মোজাম্মেল হক আন্দোলনকারীদের সঙ্গে একাত্মতা পোষণ করেন। তিনি আজ থেকে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে থাকার কথা জানান।

অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক শরমিন্দ নীলোর্মী বলেন, ‘যে ক্ষমতা সাধারণ ছাত্র-ছাত্রীর মনোভাব বুঝতে ব্যর্থ হয়, সেই ক্ষমতা টিকে থাকতে পারে না। বলপ্রয়োগ করে যাঁরা ক্ষমতায় থাকতে চায়, তাঁরা নিকৃষ্ট। বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্দোলনকারীদের ওপর ছাত্রলীগ দিয়ে যেভাবে হামলা চালানো হয়েছে, এরপর এই উপাচার্যকে বরখাস্ত করা উচিত।’

দর্শন বিভাগের অধ্যাপক কামরুল আহসান বলেন, ‘প্রথমদিকে উপাচার্যের বিরুদ্ধে ওঠা দুর্নীতির অভিযোগের তদন্তের দাবিতে আন্দোলন শুরু হয়েছিল। কিন্তু ভীত উপাচার্য তদন্ত কমিটির মুখোমুখি হতে চাননি। উল্টো তারিখ পাল্টানোর সঙ্গে তিনি তাল মিলিয়ে মিথ্যাচার করেছেন। উপাচার্য পদে থেকে এধরনের নির্লজ্জ মিথ্যাচার করার পর ফারজান ইসলাম শুধু উপাচার্য পদ থেকেই নয়, বরং বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক হিসেবে থাকার যোগ্যতাও রাখেন না।’

 

রসায়ন বিভাগের শিক্ষার্থী তাজরীন ইসলাম বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ে গর্বের জায়গাটিকে ধুলোয় মিশিয়ে দিয়েছেন এই উপাচার্য। তিনি ছাত্রলীগ দিয়ে শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা চালিয়ে ক্ষমতায় টিকে থাকতে চান। তারপর আবার মিডিয়ার সামনে বুক ফুঁলিয়ে বললেন, তিনি আনন্দিত। এটি বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য চরম লজ্জার।’

প্রাণিবিদ্যা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক আব্দুর রাজ্জাক বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য একটি কালো অধ্যায় রচনা করেছেন উপাচার্য। আমার সামনে আমার ছাত্রদেরকে শিবির তকমা দিয়ে অবরোধ কর্মসূচি থেকে তুলে নিয়ে মারধর করেছে। আমার লজ্জা, আমার শিক্ষকতার লজ্জা, এই ছাত্রলীগের ছেলে মেয়েদেরকেও আমি পড়াই।’

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা হয়।

আন্দোলনে সংহতি প্রকাশ করে সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ, অধ্যাপক রায়হান রাইন, অধ্যাপক তপন কুমার সাহা, অধ্যাপক সাঈদ ফেরদৌস, অধ্যাপক মির্জা তাসলিমা সুলতানা, অধ্যাপক কামরুল আহসান, অধ্যাপক আনোয়ারুল্লাহ ভুঁইয়া, অধ্যাপক আব্দুর রাজ্জাক, অধ্যাপক খবির উদ্দিন, অধ্যাপক কবিরুল বাশার, অধ্যাপক শরমিন্দ নীলোর্মি, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের শিক্ষক তানজীম উদ্দিন খান প্রমুখ।

এর আগে গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে অনির্দিষ্টকালের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধের ঘোষণা দিয়ে বিকেল সাড়ে পাঁচটার মধ্যে আবাসিক হল ছাড়ার নির্দেশ দিয়েছিল বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। কিন্তু গতকাল বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধের সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিটি হল থেকে শিক্ষার্থীরা বের হয়ে আসেন। তাঁরা ক্যাম্পাসের বিভিন্ন সড়ক ঘুরে বিক্ষোভ মিছিল করতে থাকেন।

গতকাল মঙ্গলবার দুপুর ১২টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের পদত্যাগ দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের ওপর ছাত্রলীগের মিছিল থেকে হামলার ঘটনা ঘটে। এতে অন্তত ৩০ জন আহত হন। উপাচার্যের বাসভবনের সামনে এ ঘটনা ঘটে।

সোমবার (৪ নভেম্বর) সন্ধ্যা সাতটা থেকে আন্দোলনকারী শিক্ষকেরা উপাচার্যের বাসভবন ঘেরাও করে রাখেন। যত দিন না উপাচার্যকে অপসারণ করা হবে, তত দিন অবরোধ অব্যাহত রাখার ঘোষণা দিয়েছিলেন আন্দোলনকারীরা।

মঙ্গলবার (৫ নভেম্বর) বেলা ১১টায় আন্দোলনকারীরা যখন উপাচার্যের বাসভবনের সামনে অবস্থান নিয়েছিলেন, তখন উপাচার্যপন্থী শিক্ষকেরা সেখানে যান। তাঁরা আন্দোলনকারী শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের তুলে দিয়ে উপাচার্যের বাসভবনে ঢোকার চেষ্টা করেন। তবে আন্দোলনকারীদের বাধার মুখে তাঁরা উপাচার্যের বাসভবনে ঢুকতে পারেননি। এর কিছুক্ষণ পর বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের ব্যানারবাহী একটি মিছিল সেখানে আসে। ওই মিছিলে দুই শতাধিক নেতা-কর্মী ছিলেন। মিছিল থেকে উপাচার্যবিরোধী আন্দোলনকারীদের ওপর হামলা হয়। হামলার ঘটনার পর এক জরুরি সিন্ডিকেট সভায় বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধের ওই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

আজ দুপুর ১টার মধ্যে সব আবাসিক হল খালি করার নির্দেশ দিয়েছিল বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। তবে কর্মসূচি বন্ধ করেনি আন্দোলনকারীরা। ফলে হল খালি করার জন্য প্রশাসনের বেধে দেওয়া দুপুর ১টা পর্যন্ত সময় কার্যকর হয়নি।
এ প্রসঙ্গে প্রভোস্ট কমিটির সভাপতি অধ্যাপক বশির আহমেদ বলেছেন, হল খালি করার বিষয়ে আমরা জরুরি বৈঠকে বসেছি। বৈঠক শেষে আমরা বেলা ৩টা নাগাদ পরবর্তী সিদ্ধান্ত জানাব।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে