উপযুক্ত পরিস্থিতি তৈরি হলেই রুহানির সঙ্গে আলোচনায় বসবেন ট্রাম্প

0
188
জি-৭ সম্মেলনের এক ফাঁকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল মাখোঁ। ছবি: এএফপি

উপযুক্ত পরিস্থিতি তৈরি হলেই ইরানের প্রেসিডেন্ট হাসান রুহানির সঙ্গে আলোচনায় বসবেন বলে জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ফ্রান্সে অনুষ্ঠিত শিল্পোন্নত দেশের জোট জি-৭ সম্মেলন শেষে গতকাল সোমবার ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল মাখোঁর সঙ্গে এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে ট্রাম্প এ কথা বলেন। গত রোববার সম্মেলনে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর অপ্রত্যাশিতভাবে হাজির হওয়ার পর ট্রাম্পের এমন বক্তব্য এল। ট্রাম্প বলেন, আলোচনার জন্য তিনি রাজি হওয়ার আগে ইরানকে ‘ভালো খেলোয়াড়’ হতে হবে।

আজ মঙ্গলবার বিবিসি অনলাইনের খবরে বলা হয়, ২০১৫ সালে ইরানের পারমাণবিক কর্মকাণ্ড সীমিত করার লক্ষ্যে করা চুক্তি থেকে গত বছর যুক্তরাষ্ট্র নাম প্রত্যাহার করার পর দুই দেশের মধ্যে সম্পর্কের অবনতি হয়। এর মধ্যে মার্কিন গোয়েন্দা প্রতিবেদন, উপসাগরীয় এলাকায় তেল ট্যাংকারে হামলা, ড্রোন ভূপাতিত করাসহ বিভিন্ন ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সম্পর্কে এখন চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে।

এরপরও গতকাল ট্রাম্প বলেছেন, ইরানের সঙ্গে নতুন পারমাণবিক চুক্তির প্রত্যাশার বিষয়ে তিনি ‘ভালো বোধ’ করছেন।

ট্রাম্প আরও বলেন, ‘আড়াই বছর আগে আমি যখন প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নিই, সেই সময়ের ইরান আর এখনকার ইরান এক নয়। আমি সত্যিই বিশ্বাস করি ইরান চমৎকার জাতি হতে পারে। কিন্তু তারা পারমাণবিক অস্ত্র রাখতে পারবে না।’

এর আগে গতকাল রুহানি বলেছিলেন, ইরান উপকৃত হবে—এমন বোধ করলে তিনি যে-কারও সঙ্গে আলোচনা করতে প্রস্তুত আছেন। তিনি বলেন, ‘যদি আমি নিশ্চিত হই, কারও সঙ্গে কোনো আলোচনায় অংশ নিলে বা বৈঠক করলে আমার দেশের উন্নয়ন-সহায়ক হবে এবং জনগণের সমস্যার সমাধান হবে, তাহলে আমি তা (আলোচনা) করতে দ্বিধা করব না।’

এবারের জি-৭ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে ফ্রান্সের বিয়ারিটজে। এতে অংশ নিয়েছেন কানাডা, ফ্রান্স, ইতালি, জাপান, যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ নেতারা। সম্মেলনের একদম শেষে ইরান ইস্যুতে ট্রাম্পের এই বক্তব্য এল। এ ছাড়া সম্মেলনে নেতারা বিশ্ববাণিজ্য, আমাজনের আগুন, ইউক্রেন, লিবিয়া এবং হংকং পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করেন।

২০১৫ সালের পারমাণবিক চুক্তিতে অংশগ্রহণকারী ফ্রান্সসহ অন্য পাঁচটি দেশ এখনো চুক্তিটি বহাল রাখার পক্ষে। তবে ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র কঠোর অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করার প্রতিক্রিয়ায় ইরান চুক্তি লঙ্ঘন করে পারমাণবিক কর্মকাণ্ডের অংশ হিসেবে ইউরেনিয়ামের উৎপাদন বাড়িয়ে দিয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা কমাতে এবং চুক্তি বাঁচাতে প্রেসিডেন্ট মাখোঁ বেশ সক্রিয়।

রোববার জি-৭ সম্মেলনে পার্শ্ব বৈঠকে অংশ নেওয়ার ছবি টুইটারে প্রকাশ করে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোহাম্মদ জাভেদ জারিফ জানান, ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ও পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে তাঁর ‘গঠনমূলক’ আলোচনা হয়েছে। তিনি জার্মান ও ব্রিটিশ কর্মকর্তাদের সঙ্গেও এক যৌথ বৈঠকে মিলিত হয়েছেন বলে জানিয়েছেন। এর আগে গত শুক্রবার সম্মেলনের দিন সন্ধ্যায় মোহাম্মদ জাভেদ জারিফ প্যারিসে ফরাসি প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল মাখোঁর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন।

ফ্রান্স কর্তৃপক্ষ সাংবাদিকদের জানায়, মার্কিন প্রতিনিধিদলের সম্মতিতেই পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। কিন্তু মার্কিন কর্মকর্তারা বলছেন, তাঁরা এ ঘটনায় বিস্মিত হয়েছেন।

মাখোঁ বলেন, সম্ভাব্য সমাধান সম্পর্কে ইরানের কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনার পর পররাষ্ট্রমন্ত্রী জারিফকে আমন্ত্রণ জানানোর কথা ট্রাম্পকে অবহিত করেছিলেন তিনি। মাখোঁ মনে করেন, আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে ট্রাম্প ও রুহানির মধ্যে ‘বৈঠক অনুষ্ঠানের পরিস্থিতি’ সৃষ্টি করা গেছে। তিনি বলেন, এখনো কোনো কিছু ঠিক হয়নি। পরিস্থিতি এখনো নাজুক। কিন্তু কৌশলগত আলোচনা শুরু হয়েছে এবং কিছু অগ্রগতিও হয়েছে। তিনি আরও বলেন, ‘রুহানিকে বলেছিলেন, যদি তিনি (রুহানি) প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সঙ্গে আলোচনায় রাজি হন, তাহলে আমি নিশ্চিত যে একটি চুক্তি পাওয়া যেতে পারে।’

২০১৫ সালের পারমাণবিক চুক্তি অনুসারে, ১০ থেকে ১৫ বছরের মধ্যে ইরানকে পারমাণবিক কর্মকাণ্ড সীমিত করতে হবে। সেই শর্তে ইরানের ওপর অবরোধ তুলে নেওয়া হয়। এর ফলে ইউরেনিয়ামসমৃদ্ধ ইরানকে ইউরেনিয়াম উৎপাদন সীমিত করতে হয় এবং এ বিষয়ে আন্তর্জাতিক পরিদর্শনের অনুমোদন দিতে হয়। গত বছরের মে মাসে এ চুক্তি থেকে নাম প্রত্যাহার করে নেয় যুক্তরাষ্ট্র। দেশটি ইরানের ওপর অর্থনৈতিক অবরোধ তুলে নিতে নতুন পারমাণবিক চুক্তির জন্য ১২টি শর্ত পূরণ করতে বলে। এর মধ্যে ছিল ইরানকে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি বন্ধ করতে হবে এবং আঞ্চলিক সংঘর্ষে এর সম্পৃক্ততা বন্ধ করতে হবে। এটাকে অগ্রহণযোগ্য উল্লেখ করে প্রত্যাখ্যান করে ইরান।

গতকালের সংবাদ সম্মেলনে ট্রাম্প নতুন চুক্তির বিষয় উল্লেখ করে বলেন, তিনি পারমাণবিক অস্ত্র ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র দেখতে চান না।

তবে ইরান নতুন কোনো শর্ত গ্রহণ করবে কি না, তা এখনো জানা যায়নি। ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম প্রেস টিভি এক প্রতিবেদনে সূত্রের নাম উল্লেখ না করে বলেছে, ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা প্রত্যাখ্যান করেছে ইরান। এটাকে ‘সমঝোতাযোগ্য নয়’ বলে জানিয়েছে।

এদিকে প্রেসিডেন্ট মাখোঁ বলেছেন, ‘ইরান কখনো পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করবে না, সে সম্পর্কে আমাদের নিশ্চিত হতে হবে।’

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে