উন্নয়নের স্বার্থেই ক্ষুদ্র জাতীয়তাবাদ পরিহার করা উচিত

0
194
ঢাকা গ্লোবাল ডায়ালগের কর্ম-অধিবেশন।

ভারত ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের উন্নতির স্বার্থে বিভিন্ন দেশে নেওয়া উদ্যোগের সুফলকে কাজে লাগানোর চেষ্টা করা উচিত। আগামী শতককে এশিয়ার শতক হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। এই উন্নয়নের কেন্দ্রবিন্দুতে আছে দক্ষিণ এশিয়া। তাই আমাদের ভবিষ্যৎমুখী হওয়া উচিত। ক্ষুদ্র জাতীয়তাবাদী দৃষ্টিভঙ্গি থেকে কোনো বিষয়কে বিবেচনার পথ পরিহার করা উচিত। আজ মঙ্গলবার রাজধানীতে অনুষ্ঠিত ঢাকা গ্লোবাল ডায়ালগের এক কর্ম অধিবেশনে বক্তারা এই অভিমত দেন।

‘কানেকটিং দ্য ইন্দো প্যাসিফিক: ইনফ্রাস্ট্রাকচার অ্যান্ড ইনফ্লুয়েন্স’ শীর্ষক কর্ম অধিবেশনে বক্তারা বাংলাদেশ, ভারতসহ এই অঞ্চলের দেশগুলোর সংযুক্তি, ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা এবং সম্ভাবনার বিষয়ে আলোচনা করেন।

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী মো. শাহরিয়ার আলম বলেন, ‘আমরা বিশ্বাস করি, চীনের অঞ্চল ও পথের উদ্যোগ (বিআরআই) ও যুক্তরাষ্ট্রের ইন্দো প্যাসিফিক স্ট্র্যাটেজি (আইপিএস) একে অন্যের পরিপূরক, সাংঘর্ষিক নয়। এ অঞ্চলের সমৃদ্ধি সম্ভাবনার কথা বলা হচ্ছে, তা দৃশ্যমান। তাই এই সম্ভাবনাকে কাজে লাগানোর স্বার্থে যতটা সম্ভব আমাদের ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করা উচিত। উন্নয়নের লক্ষ্য থেকে আমাদের দৃষ্টি যেন না সরে। বিভিন্ন দেশের নেওয়া বিভিন্ন প্রস্তাব নিয়ে আমরা যেন বিভ্রান্ত না হই।’

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, জনগণের সেবা এবং পণ্যের অবাধ চলাচল এই অঞ্চলের সমৃদ্ধির জন্য অপরিহার্য উপাদান।

ভারতীয় লোকসভায় কংগ্রেস দলীয় সদস্য মনীষ তিওয়ারি বলেন, ‘আমাদের একমুখী জাতীয়তাবাদী ধারার চিন্তা থেকে বেরিয়ে আসা উচিত। আগামী শতক যদি এশিয়ার হয়, তবে তার কেন্দ্রেই আছে দক্ষিণ এশিয়া। তাই নিজেদের ভবিষ্যতের স্বার্থেই আমাদের ভাবনার জগৎকে প্রসারিত করা উচিত। আমাদের সামনের দিকে তাকানো উচিত। যে ২০০ কোটি মানুষের দায়িত্ব আমাদের হাতে আছে, এটা যেন আমরা ভুলে না যাই।’

ঢাকায় ভারতীয় হাইকমিশনার রীভা গাঙ্গুলী দাস বলেন, ‘ইন্দো প্যাসিফিক একটি স্বভাবজাত অঞ্চল হিসেবে বিবেচিত। এটি কৌশলগত কিংবা কোনো গোষ্ঠীবদ্ধ দেশের সমাহার নয়। আমরা এই অঞ্চলের উন্নয়নের স্বার্থেই সবাইকে নিয়ে এগিয়ে চলতে চাই, কাউকে বাদ দিয়ে নয়। আমরা একটি অবাধ ও অংশগ্রহণমূলক প্রক্রিয়ার মধ্যে দিয়ে এগোতে চাই।’

চীনের ফুদান বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মিনওয়াং লিন বলেন, ‘ইন্দো প্যাসিফিককে আমরা একটি ভৌগোলিক ভাবনা হিসেবে বিবেচনা করি না। তাই আমরা এই উদ্যোগ নিয়ে সন্দিহান। কারণ, জাপান, ভারত ও অস্ট্রেলিয়াকে নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র একটি নিরাপত্তা সংলাপের আয়োজন করেছে। কাজেই কেন তারা এই নিরাপত্তার কাঠামো তৈরি করল, এ নিয়ে তো প্রশ্ন উঠে যায়। এ জন্য আমরা এই উদ্যোগকে অংশগ্রহণমূলক মনে করি না। কারণ, অবাধ উদ্যোগের মানে হচ্ছে সকল দেশের সবার সম্পৃক্ততা।’

আলোচনায় সঞ্চালনা করেন অক্সকন ফ্রন্টিয়ার মার্কেট অ্যান্ড ফ্র্যাজাইল স্টেটস কন্সাল্টিংয়ের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহামেদ এল দাশান।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.