ঈদের পরের দিনও ঘরমুখো যাত্রীর এমন চাপ দেখেনি কেউ

সরেজমিন: শিমুলিয়া ঘাট

0
36
ঈদের পরের দিনও শিমুলিয়া ঘাটে যাত্রীর ব্যাপক চাপ

শনিবার সকাল ৮টা। মুন্সীগঞ্জের শিমুলিয়ায় দুই নম্বর ফেরিঘাটে ‘শাহ মখদুম’ ফেরি নোঙর করা। এর ঘণ্টা দেড়েক আগেই পন্টুন দখলে নিয়েছে শত শত মানুষ। গাড়ি ওঠাতে ফেরির গেট খুলে দিতেই শুরু হুড়োহুড়ি। মুহূর্তেই সাধারণ যাত্রীদের দখলে চলে যায় পুরো ফেরি। এরমধ্যে এই বড় ফেরিতে ঠেলেঠুলে জায়গা করে নিতে পেরেছে ১০-১২ টি ব্যক্তিগত গাড়ি।

টিকিট কেটে ফেরিতে ওঠা যাত্রীরা ততক্ষণে সকালের রৌদ্রের তাপে হাঁসফাঁস শুরু করে দিয়েছেন। এই যাত্রীদলে নারী, শিশু, বৃদ্ধ থেকে সবাই রয়েছেন। তবে তাদের প্রায় কারো মুখেই মাস্ক দেখা যায়নি। কেউ হাতে রেখেছেন তা, কারো থুতনির নিচে। সামাজিক দূরত্ব মানার বিষয়টি চিন্তাও করতে পারছিলেন না সাধারণ যাত্রীরা।

১ নম্বর ফেরিঘাটে ‘শাহ পরাণ’ ফেরি নোঙর করে রাখা হলেও সকাল সাড়ে ৮টা পর্যন্ত সেটি ছাড়বে কিনা, তা নিশ্চিত না হলেও ওই পন্টুনেও দেখা গেল পাঁচ শতাধিক মানুষের জটলা। সেই জটলা পন্টুন থেকে ছাড়িয়ে গেছে গাড়ি পার্কিংয়ের মাঠ পর্যন্ত। শুধু ওই দুটি ফেরিতেই নয়, প্রায় সব ঘাটেই যাত্রীদের প্রচণ্ড ভিড় চোখে পড়ল। সাধারণ যাত্রীদের কারণে ততক্ষণে ঘাটে জড়ো হয়ে গেছে বিভিন্ন ধরনের শত শত গাড়ি। মানুষের ভিড় ঠেলে সেই গাড়ি আর ফেরি ধরতে পন্টুনের দিকে যেতে পারছিল না।

ঘাটে দায়িত্বরত পুলিশ, বিআইডব্লিউটিএ কর্মচারী ও দোকানীরা বলছিলেন, সাধারণত ঈদের পরের দিন এভাবে যাত্রীর স্রোত দেখা যায় না। কিন্তু যখন মানুষের যাতায়াতে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে, তখনই ঈদের পরের দিনও দেখা যাচ্ছে ঘরমুখো মানুষের উপচে পড়া ভিড়।

শনিবার সকাল ৬টা থেকে অন্তত তিন ঘণ্টা শিমুলিয়া ফেরিঘাট এলাকায় অবস্থান করে ন্যূনতম ব্যবস্থাপনা চোখে পড়লো না। পুলিশের ট্রাফিক সদস্যরা যাত্রীবাহী ব্যক্তিগত গাড়িগুলো আটকে দিলেও অটোরিকশায় থাকা যাত্রীরা নির্বিঘ্নেই ঘাটে প্রবেশ করতে পারছেন। এসব যাত্রীদের ঠেকাতে বা করোনাকালের এই সময়ে স্বাস্থ্য সচেতন করতেও নেই কোনো উদ্যোগ। আবার তদবির ও কিছু টাকার বিনিময়ে সিরিয়াল ভেঙেই ঘাটের দিকে যেতে দেখা যায় গাড়ি।

মাইক্রোবাস চালক মিন্টু মিয়া বলছিলেন, ঘাটে প্রবেশের টার্মিনাল চার্জ ৭৫ টাকা হলেও গাড়িপ্রতি ১০০ টাকা রাখা হচ্ছে। ঘাটেও কোনো ব্যবস্থাপনা নেই। গাড়ি না উঠতে দিয়ে মানুষ পারাপারেই ব্যস্ত ফেরিগুলো।

সকাল ৭টার দিকে সাইদুর রহমান নামের এক প্রাইভেটকার চালক বলছিলেন, ভোর ৪টা থেকে তিনি ফেরিতে উঠতে সিরিয়ালে রয়েছেন। কিন্তু গাড়ি আগায় না। ভিআইপি আর পুলিশ- আনসার ম্যানেজ করতে পারলেই কিছু গাড়ি যাচ্ছে।

ফেরিতে ওঠা বেশ কয়েকজন যাত্রী বলছিলেন, ফেরিতে গাড়ি ছাড়া সাধারণ যাত্রীপ্রতি ভাড়া ১৫ থেকে ২০ টাকা। কিন্তু তাদের কাছ থেকে ৫০ টাকা করে রাখা হয়েছে।

অবশ্য ঘাটে দায়িত্বরত লৌহজং থানার উপপরিদর্শক আ. খালেক দাবি করেন, ম্যানেজের কিছু নেই। নিয়ম মতোই সব চলছে। সাধারণ যাত্রীদের চাপ সামলাতে গিয়ে ফেরিতে গাড়ি উঠানো যাচ্ছে না।

শিমুলিয়া ঘাটে দায়িত্বরত সার্জেন্ট মো. শামীম জানান, ঈদের পরের দিনও ঘরমুখো এমন ভিড় হবে, তা ধারণাতেও ছিল না। মানুষের জন্য ফেরিতে গাড়িই তোলা যাচ্ছে না। তবে সময় যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে।

এদিকে লকডাউনে যানবাহন বন্ধ থাকার কথা বলা হলেও ঢাকা থেকে শিমুলিয়া ঘাটে যেতে যেতে বাস চলাচল করতেও দেখা গেছে। ওই রুটে নিয়মিত চলাচলকারী ইলিশ পরিবহনের বাস ছাড়াও ঢাকার অভ্যন্তরীণ রুটের আজমেরী গ্লোরি থেকে শুরু করে নানা পরিবহনের বাসই চলতে দেখা যায়। এর বাইরে লেগুনা, টেম্পুসহ নানা বাহনে দেখা গেছে যাত্রীদের ভিড়।

আতাউর রহমান, শিমুলিয়া ঘাট থেকে

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে