ইরানে হিজাব খুলে প্রতিবাদ জানাল স্কুলের মেয়েরা

0
62
কারাজের প্রধান সড়কে স্কুলশিক্ষার্থীদের অবরোধ, ছবি: টুইটার আজকের
ওই শিক্ষা কর্মকর্তার দিকে স্কুলের মেয়েদের খালি পানির বোতল ছুড়ে মারতে দেখা যায়। এরপর ওই শিক্ষা কর্মকর্তা স্কুলের গেট দিয়ে বের হয়ে যান।

কারাজ শহরের আরেকটি ভিডিওতে শিক্ষার্থীদের চিৎকার করে বলতে শোনা গেছে, ‘আমরা যদি এক না হই, তারা আমাদের একের পর এক মেরে ফেলবে।’ ইরানের ফার্স প্রদেশের পঞ্চম জনবহুল শহর শিরাজের প্রধান সড়ক অবরোধ করে রেখেছে স্কুলের মেয়েরা। এ সময় তারা ‘একনায়কের মৃত্যু’ বলে স্লোগান দেয়। ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির উদ্দেশে বিক্ষোভকারীরা এ স্লোগান দেয়।

গতকাল মঙ্গলবারও কারাজ, তেহরান, উত্তর–পশ্চিমাঞ্চলের সাকেজ ও সানানদাজ শহরে স্কুলের মেয়েরা বিক্ষোভ করেছে। ইরানের বেশ কয়েকটি স্কুলের শ্রেণিকক্ষে হিজাব খুলে শিক্ষার্থীদের দাঁড়িয়ে প্রতিবাদ জানানোর ছবি প্রকাশিত হয়েছে। তাদের মধ্যে অনেকে মাঝের আঙুল তুলে প্রতিবাদ জানিয়েছে। ইসলামিক রিপাবলিকের প্রতিষ্ঠাতা ও ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির ছবির সামনে এমনভাবে কেউ কেউ প্রতিবাদ জানায়।

ইরানে বিক্ষোভের তৃতীয় সপ্তাহ চলছে। চলমান বিক্ষোভ ইরানের সরকারের জন্য চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। কারণ, ইরান সরকারকে এখন কেবল রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ নয়; বরং কিশোর–তরুণ, স্কুলের শিক্ষার্থীদের মোকাবিলা করতে হচ্ছে।

বিক্ষোভরত শিক্ষার্থীদের অনেকেই স্বাভাবিক জীবনের দাবি জানিয়েছে। তারা স্বাধীনভাবে জীবন যাপন করতে চেয়েছে। এখন প্রায় প্রতিটি স্কুল ও বিশ্ববিদ্যালয় বিক্ষোভের কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে নিরাপত্তাকর্মীদের সহিংস আচরণের প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন। এরপরই খামেনির বিরুদ্ধেও বিক্ষোভ হয়েছে।

মাসার পরিবার বলছে, পুলিশ কর্মকর্তারা তাঁর মাথায় লাঠি দিয়ে আঘাত করেছে। তাঁর মাথা গাড়িতে ঠুকে দিয়েছে। তবে পুলিশ বলছে, মাসা হঠাৎ হৃদ্‌রোগে আক্রান্ত হন।

ইরানের উত্তর–পশ্চিমাঞ্চলের কুর্দি জনগোষ্ঠী–অধ্যুষিত শহরে প্রথম বিক্ষোভ হয়। মাসা আমিনি ওই শহরেই থাকতেন। এরপর বিক্ষোভ ইরানে ছড়িয়ে পড়ে।নরওয়েভিত্তিক ইরান হিউম্যান রাইটস গতকাল বলেছে, বিক্ষোভ চলাকালে নিরাপত্তাকর্মীরা ১৫৪ জনকে হত্যা করেছেন।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.