ইরানের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে এগিয়ে রাইসি

0
37
ইব্রাহিম রাইসি

ইরানের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞায় থাকা বিচারক ইব্রাহিম রাইসি এগিয়ে রয়েছেন। শনিবার দুপুরের দিকে নির্বাচনের প্রাথমিক ফল জানা যাবে বলে আশা করা হচ্ছে।

রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শুক্রবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টা পর্যন্ত দুই কোটি ২০ লাখ ভোটার ভোট দিয়েছেন, যা মোট ভোটারের ৩৭ শতাংশ। দেশটিতে মোট ভোটার ৫ কোটি ৯০ লাখের বেশি। তবে, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে ভোটগ্রহণের সময়সীমা ইরানের সময় শুক্রবার মধ্যরাত পর্যন্ত বাড়ানো হয়। ইরানের স্থানীয় সংবাদ মাধ্যমগুলো জানিয়েছে, ভোটকেন্দ্রের বাইরে বিপুল সংখ্যক ভোটারকে অপেক্ষায় থাকতে দেখা গেছে।

নিজ কেন্দ্রে ভোট দেয়ার পর এগিয়ে থাকা প্রার্থী রাইসি বলেন, ‘যার যা রাজনৈতিক মতাদর্শ থাকুক, তাই নিয়েই সবাইকে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানাচ্ছি আমি। আমাদের জনগণের প্রতি সুশাসনের ঘাটতি একটি বাস্তবতা, কিন্তু এই কারণে ভোটদান থেকে বিরত থাকা ঠিক নয়।’

তেহরানে ভোট দেওয়ার পর ইরানের শীর্ষ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ খোমেনি সব ভোটারকে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘প্রতিটি ভোটই গণনা করা হবে … আসুন এবং ভোট দিয়ে আপনার প্রেসিডেন্টকে বেছে নিন।’

এদিকে, ইরানের সংবিধান অনুযায়ী দুই মেয়াদের বেশি ক্ষমতায় থাকা বেআইনি হওয়ায় রুহানি তৃতীয়বার নির্বাচনে অংশ নিতে পারছেন না। ২০১৯ সালে ইরানের বিচার বিভাগের প্রধান হিসেবে রাইসিকে নিয়োগ দেন আয়াতুল্লাহ খোমেনি। ইরানের প্রভাবশালী ‘রেভুলোশনারি গার্ড’দেরও সমর্থন রয়েছে রাইসির পেছনে।

এদিকে, ভোটারদের সঙ্গে কথা বলে মিশ্র প্রতিক্রিয়া জানতে পেরেছে রয়টার্স। তেহরানের কাছাকাছি কারাজের ভোটার মরিময় ভোট দেবেন না জানিয়ে বলেন, ‘আমি পুরো ব্যবস্থাটির ওপর আস্থা হারিয়ে ফেলেছি।’

ইরানের দক্ষিণাঞ্চলের একটি ভোটকেন্দ্রে আরেকজন ভোটার মোহাম্মদকে জিজ্ঞেস করা হয় তিনি কোন প্রার্থীকে পছন্দ করেন। জবাবে তিনি বলেন, “সত্যি কথা বলতে, আমি কাউকেই পছন্দ করি না। কিন্তু পার্লামেন্টে আমাদের প্রতিনিধি বলেছে, পরিস্থিতির উন্নতি ঘটাতে চাইলে রাইসিকে ভোট দেওয়া উচিত।”

১৯৭৯ সালে ইরানে ইসলামি বিপ্লবে যারা নিহত হয়েছিলো তাদের এবং সেদেশের রাজনৈতিক বন্দিদের স্বজনরা এই নির্বাচন বয়কটের আহ্বান জানিয়েছে। অন্যদিকে ক্ষমতাসীনদের ধর্মীয় অনুসারী কট্টর সমর্থক গোষ্ঠী রাইসির পক্ষে ভোট দেওয়ার ডাক দিয়েছে।

এদিকে ওয়াশিংটনে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের একজন মুখপাত্র বলেছেন, ‌ইরানিরা নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে তাদের নেতা নির্বাচনের অধিকার থেকে বঞ্চিত হয়েছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন মুখপাত্র বলেছেন, কে ক্ষমতায় যাবে তা যুক্তরাষ্ট্রের ইচ্ছার ওপর নির্ভর করে। ফলাফল শেষে, আমরা পারমাণবিক চুক্তি নিয়ে আমাদের মিত্রদের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাবো।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে