ইন্টারনেট আসক্তির কারণে বই পড়ার অভ্যাস হারাচ্ছে: ড. জাফর ইকবাল

0
193
ড. মুহম্মদ জাফর ইকবাল

বিশিষ্ট লেখক ও শিক্ষাবিদ অধ্যাপক ড. মুহম্মদ জাফর ইকবাল বলেছেন, ছেলেমেয়েরা যেভাবে ইন্টারনেটের প্রতি আসক্ত হয়ে উঠছে, তাতে বই পড়ার অভ্যাস হারিয়েই যাচ্ছে। শিক্ষার্থীদের দরকার নির্মল আনন্দ-আড্ডা এবং নিজেদের মধ্যে কথাবার্তা বলা।

রোববার সকালে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে কিশোর সাংবাদিকদের এক কর্মশালার উদ্বোধন অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। সেভ দ্য চিলড্রেন, সিপ এবং পরিপ্রেক্ষিতের উদ্যোগে এর আয়োজন করা হয়। এতে অংশ নেন ঢাকা, সাভার ও চট্টগ্রামের ৩০ জন কিশোর-কিশোরী।

পাঠ্যপুস্তকের বাইরেও শিক্ষার্থীদের সহশিক্ষামূলক কার্যক্রমে অংশ নেওয়ার জন্য অনুরোধ জানান জাফর ইকবাল। প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, একটা কঠিন সময়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছি আমরা। অভিভাবকরা ভালো ফল করতে সন্তানের ওপর চাপ দেন। এতে বাচ্চারা পড়াশোনার আগ্রহ হারিয়ে ফেলে। এ অবস্থা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। কিশোর-কিশোরীদের বই পড়ার ব্যাপারে উৎসাহিত করতে হবে।

তিনি আরও বলেন, সবার আগে মানুষ হতে হবে। মানুষ হওয়ার জন্য মানবিক গুণাবলি থাকতে হবে। একই সঙ্গে অন্যের উপকার করার মানসিকতা থাকতে হবে।

অনুষ্ঠানে একুশে টেলিভিশনের সিইও মনজুরুল আহসান বুলবুল বলেন, আমাদের প্রত্যেককে গণমাধ্যমমনস্ক হতে হবে। এটা একটা মানুষের বিকাশের জন্য অত্যন্ত জরুরি।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের নেতিবাচক দিক তুলে ধরে তিনি বলেন, মিথ্যা খবর এবং গুজব ছড়ানোর একটা প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। সাম্প্রতিক সময়ের ভোলার ঘটনার উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, এ জন্যই এই কর্মশালা গুরুত্বপূর্ণ, যেন একটা সংবাদ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছাড়ার আগে যাচাই-বাছাই করতে শেখে সবাই।

জিটিভির প্রধান সম্পাদক সৈয়দ ইশতিয়াক রেজা বলেন, যারা প্রশিক্ষণ নেবেন, তাদের সাংবাদিকতার মৌলিক বিষয়গুলো নিয়ে আগ্রহী করে তোলা হবে এবং উৎসাহিত করা হবে। আগামী দিনের সাংবাদিকতায় যেন তারা অবদান রাখতে পারেন, সেটাই হলো এ কর্মশালার প্রধান লক্ষ্য।

পরিপ্রেক্ষিতের নির্বাহী পরিচালক সৈয়দ বোরহান কবীর কর্মশালার বিষয়ে বলেন, ঢাকা, সাভার ও চট্টগ্রাম থেকে বাছাই করা ৩০ শিক্ষার্থীকে হাতেকলমে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। এরপর তারা নিজেরা প্রতিবেদন তৈরি করবেন, যা পরে মূলধারার গণমাধ্যমে প্রকাশের ব্যবস্থা করা হবে।

তিনি আরও বলেন, তাদের এমনভাবে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে, যেন তারা মূলধারার গণমাধ্যমে যুক্ত হতে পারেন। কর্মশালা শেষে তারা নিজেদের উদ্যোগে একটি কিশোর পোর্টাল তৈরি করবেন। এই পোর্টাল হবে তাদের তথ্য আদান-প্রদানের প্ল্যাটফর্ম।

অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন সেভ দ্য চিলড্রেনের ডেপুটি ডিরেক্টর সৈয়দ মতিউল আহসান এবং সিপের ডেপুটি এপিকিউটিভ ডিরেক্টর তাহমিনা জেসমিন মিতা। পরিপ্রেক্ষিতের মোহাম্মদ আবিদ হাসান অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে