ইউক্রেনে সাঁজোয়া যান ‘টারমিনেটর’ মোতায়েন করেছে রাশিয়া: যুক্তরাজ্য

0
61
রাশিয়ার বিজয় দিবসের কুচকাওয়াজের আগে সাঁজোয়া যানের মহড়া, ফাইল ছবি: রয়টার্স

যুক্তরাজ্যের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের বরাত দিয়ে বিবিসির এক প্রতিবেদনে বলা হয়, যুদ্ধক্ষেত্রে ট্যাংকবহরকে সহায়তার জন্য বিএমপি-টি টারমিনেটর ব্যবহার করে রাশিয়া। আফগানিস্তান ও চেচনিয়ায় যুদ্ধের পর রাশিয়া এই সাঁজোয়া যান তৈরি করেছিল।

ইউক্রেনে এই টারমিনেটরের একটি বহর মোতায়েন করা হয়েছে বলে মনে করছে যুক্তরাজ্য। দেশটির ভাষ্য, বহরে এই সাঁজোয়া যানের সংখ্যা ১০–এর বেশি নয়। সেগুলো ইউক্রেন যুদ্ধে তেমন প্রভাব ফেলবে না বলে মনে করা হচ্ছে।

যুক্তরাজ্যের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের টুইট অনুসারে, সেভেরোদোনেৎস্কে বিএমপি-টি টারমিনেটর মোতায়েন করার অর্থ হলো, সেখানে ‘সেন্ট্রাল গ্রুপিং অব ফোর্সেস’ নামে রাশিয়ার একটি বিশেষ বাহিনী অবস্থান করছে। রাশিয়ার অভিযানের শুরুর দিকে ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভের আশপাশে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির মুখে পড়েছিল এই বাহিনী।

গত ২৪ ফেব্রুয়ারি ইউক্রেনে হামলা শুরু করার পর নিজেদের লক্ষ্যে বদল আনে মস্কো। জানিয়ে দেয়, রাজধানী কিয়েভ নয়, দেশটির পূর্বাঞ্চলে দনবাসের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার দিকে নজর দেবে তারা। এর পর থেকে সেখানে রুশ হামলা তীব্র হয়েছে। এ নিয়ে গতকাল শনিবার ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি বলেছেন, ‘দনবাসের অবস্থা খুবই খারাপ।’

লুহানস্ক ও দোনেৎস্ক নিয়ে গঠিত ইউক্রেনের দনবাস অঞ্চল। ইউক্রেনে রাশিয়ার হামলা শুরুর আগে থেকেই লুহানস্ক ও দোনেৎস্কের বেশির ভাগ এলাকা রুশপন্থী বিচ্ছিন্নতাবাদীদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। মস্কো এখন অবশিষ্ট এলাকা দখল করতে চাইছে।

লুহানস্ক ও দোনেৎস্কের বিচ্ছিন্নতাবাদীনিয়ন্ত্রিত এলাকায় অবস্থানকারী ইউক্রেনের সেনারা গতকাল বলেছেন, সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় তাঁরা রাশিয়ার ৯টি হামলা ঠেকিয়েছেন। এ সময় ধ্বংস করা হয়েছে ৫টি ট্যাংক ও ১০টি সাঁজোয়া যান।

ওই সেনাদের ভাষ্যমতে, রুশ বাহিনী যুদ্ধবিমান, কামান, ট্যাংক, রকেট, মর্টার ও ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে বেসামরিক বিভিন্ন স্থাপনা এবং আবাসিক এলাকায় হামলা চালাচ্ছে। দোনেৎস্ক অঞ্চলে অন্তত সাতজন নিহত হয়েছেন।

এদিকে সেভেরোদোনেৎস্ক ও লিসিচানস্ক শহরের মধ্য দিয়ে বয়ে যাওয়া সিভারস্কি দোনেৎস নদীর একটি সেতু রুশ বাহিনী ধ্বংস করেছে বলে জানিয়েছেন লুহানস্কের আঞ্চলিক গভর্নর সারহি গাইদাই। তিনি বলেন, সেভেরোদোনেৎস্ক শহরের কাছে রাশিয়া ও ইউক্রেনের সেনাদের মধ্যে গতকাল সকাল থেকে রাত পর্যন্ত লড়াই চলেছে।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে