ইউএনওর হস্তক্ষেপে অসহায় বাবার ভরণপোষনের দায়িত্ব নিলেন দুই সন্তান

0
497

সুরুজ আলী (৭৫)। অন্যের বাড়িতে থাকেন। কাজ করে দুবেলা খাবার জোটানোই অনেক কষ্টসাধ্য ব্যাপার। কারণ, বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে নানা রোগ বাসা বেঁধেছে শরীরে। দুই সন্তান থাকার পরও তিনি অসহায়। কেউই খোঁজখবর নিচ্ছিলেন না। নিরুপায় সুরুজ আলী আবেদন করেন শেরপুরের নালিতাবাড়ী উপজেলা প্রশাসনের কাছে। পরে প্রশাসনের হস্তক্ষেপে সন্তানেরা তাঁর দায়িত্ব নিয়েছেন।

সুরুজ আলী উপজেলার দক্ষিণ সোহাগপুর গ্রামের বাসিন্দা। তিনি এখন গ্রামে অন্যের বাড়িতে বসবাস করেন। তাঁর ছেলে তারা মিয়া বিয়ে করে পাশের ইউনিয়নের কিল্লাপাড়া গ্রামে শ্বশুরবাড়িতে বাস করেন। মেয়ে আয়শা বেগম স্বামী-সন্তানদের নিয়ে ঢাকায় থাকেন। আয়শা পোশাক কারখানায় কাজ করেন।

উপজেলা প্রশাসন ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধি সূত্রে জানা গেছে, বৃদ্ধ সুরুজ আলী মেয়ে আয়শাকে ৩০ শতাংশ ও ছেলে তারা মিয়াকে ১৭ শতাংশ জমি লিখে দেন। তাঁর নিজস্ব যেটুকু সম্পত্তি ছিল, তা তিনি বিক্রি করে নিঃস্ব হয়ে পড়েন। ভূমিহীন অবস্থায় অন্যের বাড়িতে বসবাস করছেন। সন্তানেরা বাবার কোনো খোঁজখবর নেন না। এ অবস্থায় সুরুজ আলী অসহায় হয়ে পড়েন।

বয়স বেড়ে যাওয়ায় তিনি কোনো কাজকর্ম করতে পারেন না। নিরুপায় হয়ে ১০ আগস্ট তিনি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আরিফুর রহমানের কার্যালয়ে আসেন। সন্তানেরা যাতে তাঁর দায়িত্ব নেন, এ বিষয়ে ইউএনওর প্রতি অনুরোধ করেন। অসহায়ত্বের কথা শুনে ইউএনও স্থানীয় কাকরকান্দি ইউপির চেয়ারম্যান শহিদ উল্লাহ তালুকদার ও রুপনারায়নকুড়া ইউপির চেয়ারম্যান মিজানুর রহমানকে বিষয়টির সার্বিক খোঁজ নিতে বলেন।

গত শুক্রবার সুরুজ আলী, ছেলে তারা মিয়া, মেয়ে আয়শা বেগমকে নিয়ে ইউপি চেয়ারম্যান শহিদ উল্লাহ তালুকদার ও মিজানুর রহমান ইউএনওর কার্যালয়ে উপস্থিত হন। সেখানে আলোচনা শেষে ছেলে ও মেয়ে বাবার খরচ হিসেবে প্রতি মাসে দুই হাজার করে টাকা দেবেন বলে প্রতিশ্রুতি দেন। আর দুই মাস পর ছেলে তারা মিয়া বাবাকে ব্যবসা করতে ৪০ হাজার টাকা দিতে রাজি হন। মেয়ে আয়শা বাবার দেওয়া সোহাগপুর গ্রামের ৫ শতাংশ জমি ফিরিয়ে দিতে রাজি হন। ওই জমিতে সুরুজ আলীকে উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে থাকার ঘর করে দেওয়া হবে বলে সিদ্ধান্ত হয়। এ সময় বাবা ও সন্তানদের মধ্যে এক আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়।

ইউএনও আরিফুর রহমান বলেন, ‘বৃদ্ধ সুরুজ আলীর করুণ অবস্থা আমাকে খুব ভাবিয়েছে। আমি তাঁর ছেলেমেয়েদের সঙ্গে অনেক কথা বলেছি। সবাইকে ডেকে কথা বলে একটা সমাধান করে দিতে পেরেছি বলে ভালো লাগছে।’

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.