আ.লীগের দুই পক্ষের সংঘর্ষে আহত ১০

0
147
প্রতীকি ছবি

ঝালকাঠির কাঁঠালিয়ায় আওয়ামী লীগের দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি সমাবেশকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষে অন্তত ১০ নেতা-কর্মী আহত হয়েছেন। উপজেলার আমুয়া ইউনিয়নের তালতলা বাজারে গতকাল রোববার সন্ধ্যায় এ ঘটনা ঘটে।

সাংসদ বজলুল হকের বিরোধীরা এ হামলা চালিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এ সময় ছয়টি গাড়ি ভাঙচুর করা হয়। পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পরে দুই পক্ষ পৃথক স্থানে সমাবেশ করে।

কাঁঠালিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগ ও কয়েকজন প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, বিকেল চারটায় কাঁঠালিয়া মডেল সরকারি বিদ্যালয় মাঠে ঝালকাঠি-১ আসনের সাংসদ বজলুল হক নেতা-কর্মীদের নিয়ে সমাবেশ আহ্বান করেন। একই সময় একই স্থানে উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান এমাদুল হকের নেতৃত্বে সাংসদবিরোধীরা সমাবেশের ডাক দেন। উপজেলা প্রশাসন দুই পক্ষকে আলাদা স্থানে সমাবেশ করতে বলে। বিকেলে সাংসদপক্ষ স্থানীয় সাবরেজিস্ট্রি কার্যালয়ের পাশে অবস্থান নিয়ে সমাবেশ করে। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে অংশ নেন সাংসদ বজলুল হক।

সাংসদবিরোধীরা কাঁঠালিয়া বাসস্ট্যান্ডে সমাবেশ করেন। জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি হাবিবুর রহমান উজির সিকদারের সভাপতিত্বে (সাংসদবিরোধী) সমাবেশে প্রধান অতিথি ছিলেন জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক তরুণ কর্মকার।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন জেলা আওয়ামী লীগের নেতা আবদুল জলিল, উপজেলা চেয়ারম্যান এমাদুল হক, জেলা আওয়ামী লীগের শিক্ষা ও পরিবেশবিষয়ক সম্পাদক অধ্যক্ষ আবুল বাশার, উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান বদিউজ্জামান বদু সিকদার, মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান ফাতিমা খানম, উপজেলা যুবলীগের সভাপতি এস এম ফায়জুল আলম সিদ্দিকী, সাধারণ সম্পাদক মো. রিয়াজ সিকদার, বিআরডিবির চেয়ারম্যান মো. কাওছার আহমেদ প্রমুখ।

সাংসদের পক্ষের লোকজনের দাবি, সাংসদের সমাবেশে যোগ দিতে আসার সময় আমুয়া ইউনিয়নের তালতলা বাজার এলাকায় বিরোধী পক্ষের লোকজন হামলা ও ভাঙচুর চালান। হামলাকারীরা ছয়টি মোটরসাইকেল ভাঙচুর করেন। লাঠিসোঁটা দিয়ে পিটিয়ে আহত করা হয় ছাত্রলীগের নেতা অলিউল ইসলাম, আকরাম হোসেন, নাঈম হোসেন, সৈকত, তাফসির হোসেন, মিজানুর রহমান, ইমরান হোসেন, সোলায়মান, মনির হোসেন ও তাওহিদুল ইসলামকে। আহত লোকজন স্থানীয় একটি ক্লিনিকে চিকিৎসা নিয়েছেন।

সাংসদ বিরোধীদের দাবি, সংঘর্ষে তাঁদের অন্তত সাত নেতা-কর্মী আহত হয়েছেন।

এ বিষয়ে জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি ও কাঁঠালিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলন প্রস্তুত কমিটির আহ্বায়ক হাবিবুর রহমান বলেন, ‘আমাদের অনুমোদিত উপজেলা আহ্বায়ক কমিটির পূর্বনির্ধারিত সমাবেশ পণ্ড করতে সাংসদ পাল্টা সমাবেশ করেন। তাঁদের কোনো লোক আহত হননি। সাংসদ বজলুল হক দল থেকে বহিষ্কার হওয়া লোকদের দিয়ে উপজেলা আওয়ামী লীগের কমিটি করার চেষ্টা করছেন।’

সাংসদ বজলুল হক বলেন, ‘আমার পূর্বনির্ধারিত সমাবেশ বন্ধ করার জন্যই ওই পক্ষ পাল্টা সমাবেশ ডাকে। প্রতিপক্ষের হামলায় আমার সমর্থিত ১০ নেতা-কর্মী আহত হয়েছেন।’

কাঁঠালিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. এনামুল হক বলেন, পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রেখেছে। কেউ অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি করার চেষ্টা চালালে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে