আলাউদ্দীন আলীর দেহে আবার ক্যানসার

0
444
আলাউদ্দীন আলী। ছবি: ফেসবুক থেকে নেওয়া

দেশের বরেণ্য গীতিকার, সুরকার, সংগীত পরিচালক ও বাদ্যযন্ত্রশিল্পী আলাউদ্দীন আলীর শরীরে আবার ক্যানসার ধরা পড়েছে। গত মঙ্গলবার প্রয়োজনীয় পরীক্ষার পর চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, তাঁর ফুসফুসে নতুন করে টিউমারের অস্তিত্ব দেখা গেছে। পাশাপাশি তাঁর যকৃতেও টিউমার পাওয়া গেছে। সব মিলিয়ে তাঁর শারীরিক অবস্থার ক্রমেই অবনতি হচ্ছে।

আজ শুক্রবার সকালে আলাউদ্দীন আলীর স্ত্রী ফারজানা মিমি জানিয়েছেন, এরই মধ্যে থাইল্যান্ডের স্যামিটিভেজ সুকুমভিত হাসপাতাল ও ব্যাংকক হাসপাতালে পরীক্ষার সব রিপোর্ট পাঠানো হয়েছে। এসব রিপোর্ট দেখে ওই হাসপাতালের চিকিৎসকেরা আলাউদ্দীন আলীকে দ্রুত সেখানে নিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। ভিসার জন্য আবেদনও করা হয়েছে। ভিসা পাওয়ার পর আগামী সপ্তাহে আলাউদ্দীন আলীকে থাইল্যান্ডে নিয়ে যাওয়া হবে।

আলাউদ্দীন আলীর মেয়ে আলিফ আলাউদ্দীন আজ বলেন, ‘অবস্থা ভালো না। ব্যাংককে নিয়ে যাওয়ার ব্যাপারে আলোচনা হয়েছে। এখনো কোনো কিছু চূড়ান্ত হয়নি।’

গত ৩ ফেব্রুয়ারি আলাউদ্দীন আলীর চিকিৎসার জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আর্থিক অনুদান হিসেবে ২৫ লাখ টাকা দিয়েছেন। ফারজানা মিমি বলেন, ‘২২ জানুয়ারি থেকে রাজধানীর মহাখালীর ইউনিভার্সেল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আলাউদ্দীন আলী ভর্তি ছিলেন। দীর্ঘদিন তাঁকে হাসপাতালের আইসিইউতে (নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র) রাখা হয়।

প্রধানমন্ত্রীর অনুদান থেকে ১৫ লাখ টাকা হাসপাতালের বিল বাবদ খরচ হয়েছে। এরপর তিনি অনেক দিন সিআরপিতে ছিলেন। সেখানেও অনেক টাকা খরচ হয়েছে। এখন আমার কাছে ৮ লাখ টাকা অবশিষ্ট আছে। কিন্তু এই টাকা দিয়ে আলাউদ্দীন আলীর প্রয়োজনীয় চিকিৎসা মোটেও সম্ভব না। আমি অনেকের সঙ্গে যোগাযোগ করেছি। তাঁদের কাছে আলাউদ্দীন আলীর জন্য আর্থিক সহযোগিতা চেয়েছি। সবাই কী পদক্ষেপ নেন, তার জন্য আমি অপেক্ষা করছি।’

গত ২২ জানুয়ারি রাতে বরেণ্য গীতিকার, সুরকার ও সংগীত পরিচালক আহমেদ ইমতিয়াজ বুলবুলের মৃত্যুসংবাদ পাওয়ার পর বাড্ডার বাসায় অসুস্থ হয়ে পড়েন আলাউদ্দীন আলী। তখন তাঁর খুব শ্বাসকষ্ট হচ্ছিল। স্বাভাবিকভাবে শ্বাস নিতে পারছিলেন না। পাশাপাশি তাঁর উচ্চমাত্রায় জ্বর ছিল। কাশ হচ্ছিল। সবকিছু মিলিয়ে অবস্থা জটিল আকার ধারণ করে। তাঁকে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যাকেন্দ্রে (আইসিইউ) তাঁকে ভর্তি করা হয়। অবস্থার অবনতি ঘটলে ২৫ জানুয়ারি সকালে তাঁকে লাইফ সাপোর্ট দেওয়া হয়। ৭৭ দিন চিকিৎসার পর তাঁর অবস্থার উন্নতি হয়। গত ৮ এপ্রিল তিনি হাসপাতাল থেকে ছাড়া পান। এর পর তাঁকে ফিজিওথেরাপি নেওয়ার জন্য মিরপুরে সিআরপিতে ভর্তি করা হয়।

ফারজানা মিমি জানালেন, আলাউদ্দীন আলী এখন রামপুরা বনশ্রীর এ ব্লকের বাসায় আছেন।

এর আগে ২০১৫ সালের ৩ জুলাই আলাউদ্দীন আলীকে ব্যাংকক নেওয়া হয়। সেখানে পরীক্ষার পর জানা যায়, তাঁর ফুসফুসে একটি টিউমার রয়েছে। তখন আলাউদ্দীন আলী জানিয়েছিলেন, টিউমারটি হৃদ্‌যন্ত্রের কাছাকাছি হওয়ায় এর অস্ত্রোপচার বেশ ঝুঁকিপূর্ণ। তবে বিকল্প হিসেবে রেডিওথেরাপি ও কেমোথেরাপির মাধ্যমে চিকিৎসা হয়। এরপর এখন পর্যন্ত তাঁর অন্যান্য শারীরিক সমস্যার পাশাপাশি ক্যানসারের চিকিৎসাও চলছিল।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.