আর্জেন্টিনার সেই ২৩ জনের একজন ওকাম্পোস

0
388
গোলের পর ওকাম্পোস। তাঁকে অভিনন্দন জানাতে গেলেন লিওনার্দো পারদেজ। ছবি: এএফপি
জার্মানির বিপক্ষে কাল প্রীতি ম্যাচে আর্জেন্টিনার হয়ে অভিষেকেই গোল পেয়েছেন লুকাস ওকাম্পোস। সেভিয়ার এই উইঙ্গারের আগে এই একুশ শতকে আর্জেন্টিনার জার্সিতে অভিষেকেই গোল পেয়েছেন ২২ ফুটবলার

জাতীয় দলের জার্সিতে রঙিন অভিষেকের স্বপ্ন দেখেন সব ফুটবলার। লুকাস ওকাম্পোসও তার ব্যতিক্রম নন। ২৫ বছর বয়সী এ সেভিয়া উইঙ্গারের কাল অভিষেক ঘটল আর্জেন্টিনার জার্সিতে। প্রীতি ম্যাচে জার্মানির সঙ্গে ২-২ গোলে ড্র করেছে আর্জেন্টিনা। নির্ধারিত সময় শেষ হওয়ার পাঁচ মিনিট আগে ওকাম্পোস গোল করতে না পারলে হার নিয়ে মাঠ ছাড়তে হতো আর্জেন্টিনাকে। অর্থাৎ অভিষেকেই দেশের হার এড়ালেন ওকাম্পোস।

লিওনেল স্কালোনি পাকাপাকিভাবে আর্জেন্টিনা কোচের দায়িত্ব পান গত বছরের নভেম্বরে। তাঁর অধীনে এ নিয়ে তিনজন ফুটবলার আর্জেন্টিনার জার্সিতে অভিষেকেই গোলের মুখ দেখলেন। গত বছর সেপ্টেম্বরে গুয়াতেমালার বিপক্ষে অভিষেকেই গোল করেছিলেন গঞ্জালো মার্তিনেজ ও জিওভান্নি সিমিওনে। তবে আর্জেন্টিনার জার্সিতে অভিষেকে ম্যাচে গোলের মুখ দেখা খেলোয়াড়ের সংখ্যা শতাধিক। কিন্তু এই একুশ শতাব্দীতে সংখ্যাটা মাত্র ২৩। ওকাম্পোস এ তালিকায় সবশেষ সংযোজন।

আগের ২২ ফুটবলার হলেন—মারিয়ো সানতানা (২০০৪), রোল্যান্দো জারাতে (২০০৫), ম্যাথিয়াস দেফেদেরিকো (২০০৯), জেসাস দাতোলো (২০০৯), গঞ্জালো হিগুয়েইন (২০০৯), গুইলামো বুরদিসো (২০১০), ফ্রাঙ্কো জারা (২০১০), ফ্যাকুন্দো বার্তোগ্লি (২০১০), লুসিয়ানো অউদ (২০১১), ক্রিশ্চিয়ান চাভেজ (২০১১), পাবলো মৌশে (২০১১), মার্কো রুবেন (২০১১), ইগনাচ্চিও সোক্কোকো (২০১২), ফেদেরিকো মানকুয়েল্লো (২০১৫), অ্যাঙ্গেল কোরেয়া (২০১৫), আলেহান্দ্রো গোমেজ (২০১৭) ও লিওনার্দো পারদেজ (২০১৭)।

আর্জেন্টাইন সংবাদমাধ্যম ‘ক্লারিন’ জানিয়েছে, একুশ শতাব্দীতে দেশটির হয়ে অভিষেকে গোলের মুখ দেখা প্রথম তিন ফুটবলার খাতা খুলেছিলেন এক ম্যাচে। মার্সেলো বিয়েলসা তখন আর্জেন্টিনার কোচ। ২০০৩ সালে সান পেদ্রোয় হন্ডুরাসের মুখোমুখি হয়ে ৩-১ গোলে জিতেছিল আর্জেন্টিনা। আকাশি-সাদা জার্সিতে গোল করেছিলেন মারিয়ানো গঞ্জালেজ, লুই গঞ্জালেজ ও দিয়েগো মিলিতো। আর্জেন্টিনার জার্সিতে সেটি ছিল তাঁদের প্রথম ম্যাচ।

আগের ২২ খেলোয়াড়ের মধ্যে অভিষেক ম্যাচে দুটি করে গোল করেছেন তিনজন—ফ্যাকুন্দো বার্তোগ্লি, পাবলো মৌশে ও ইগনাচ্চিও সোক্কোকো। তবে বার্তোগ্লি (২০১০) ও মৌশে (২০১১) অভিষেক ম্যাচের পর আর জাতীয় দলের জার্সিতে খেলার সুযোগ পাননি। এমন দুর্ভাগ্য মেনে নিতে হয়েছে আরও দুজন ফুটবলারকে। গুইলার্মো বুরদিসো ও মার্কো রুবেন। বুরদিসো ২০১০ সালে কোস্টারিকার বিপক্ষে অভিষেকে গোল পেলেও পরে আর সুযোগ পাননি। পরের বছর পোল্যান্ডের বিপক্ষে অভিষেকেই গোল করেন রুবেন। কিন্তু এরপর আর খেলার সুযোগ পাননি জাতীয় দলে।

ওকাম্পোস নিশ্চয়ই সে পথে হাঁটার কথা কল্পনাতেও আনেন না!

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে