আবারও জয় পেল রিয়াল

0
623
লাল কার্ড দেখেছেন মদরিচ। ছবি: এএফপি

 

পাঁচ ম্যাচ পর প্রতিপক্ষের মাঠে জয় পেল রিয়াল মাদ্রিদ।

ভয়ংকর এক মৌসুম শেষে আরও ভয়ংকর এক প্রাক মৌসুম। সেল্টা ভিগোর মাঠে মৌসুম শুরু করতে গিয়েছিল রিয়াল। সে ম্যাচেই কি না মূল তারকা এডেন হ্যাজার্ড ছাড়া নামতে হলো রিয়াল মাদ্রিদকে। মৌসুমের শুরুটা শঙ্কা নিয়েই হাজির হয়েছিল রিয়ালের জন্য। কিন্তু দশ জনের দল নিয়েও সব দুশ্চিন্তা উড়িয়ে দিয়ে সেল্টার মাঠ থেকে ৩-১ গোলের জয় নিয়ে ফিরল রিয়াল।

দ্বিতীয়ার্ধের ১০ মিনিটের দিকেও এমন কিছু অসম্ভব মনে হচ্ছিল। দেনিস সুয়ারেজকে ফাউল করেছিলেন লুকা মদরিচ। প্রথমে সাধারণ এক ফাউলই ধরা হচ্ছিল সেটাকে। এমনকি ভিএআর রেফারিকে ডেকের পাঠানোর পরও ধারাভাষ্য কক্ষে আলোচনা চলছিল হলুদ কার্ড দেখানোর জন্যও ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারির সাহায্য দরকার হয় কি না। কিন্তু রিপ্লে দেখে মদরিচকে সরাসরি লাল কার্ড দেখানো হলো। কারণ বদলে যাওয়া নিয়মে পেছন থেকে গোড়ালিতে ফাউল করলেই লাল কার্ড। ম্যাচের ৩৫ মিনিট বাকি থাকা অবস্থায় ১০ জনের দলে পরিণত হলো রিয়াল।

রিয়াল সমর্থকদের অবশ্য তাতেও ভিএআরকে গালি দেওয়ার উপায় নেই। কারণ এর ১০ মিনিট আগেই ভিডিও রিপ্লে রিয়ালকে বাঁচিয়ে দিয়েছে। প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ে নিজের ডি বক্সের বাইরে অতি আত্মবিশ্বাসী হতে গিয়ে ওই সুয়ারেজের কাছেই বল খুইয়েছেন ওদ্রিওসোলা। সেটা ইয়াগো আসপাসের পা থেকে পেয়েছিলেন মেন্ডেজ। বল জালে পাঠিয়ে স্কোর ১-১ও করেছিলেন সেল্টার এই খেলোয়াড়। কিন্তু ভিএআর জানায় সুয়ারেজের পা ছুঁয়ে বল যখন আসপাসের কাছে এসেছে, তখন আসপাস সেল্টা অধিনায়ক অফসাইডে ছিলেন।

গত মৌসুমের ফর্ম ধরে রেখে প্রথম ম্যাচেও দলকে জয় এনে দিলেন বেনজেমা। ছবি: এএফপি

ম্যাচের চমক অবশ্য খেলা শুরু হওয়ার এক ঘণ্টা আগেই পেয়েছে সবাই। পুরো দলবদল গ্যারেথ বেলকে বিক্রি করার কথা ভেবেছেন জিনেদিন জিদান। এমনকি এক প্রীতি ম্যাচে না নেওয়ার কারণ হিসেবে বলেছিলেন, ‘ওকে নেওয়া হয়নি কারণ ওর দল বদলের চেষ্টা চলছে । যত দ্রুত সে দলবদল করে ততই ভালো।’ সেই বেল কিনা লিগের প্রথম ম্যাচে নামলেন মূল একাদশেই! তার চেয়েও বড় চমক, ম্যাচের প্রথমার্ধের সেরা খেলোয়াড় ছিলেন বেলই। ম্যাচের ১২ মিনিটে কাসেমিরোর সুবাদে মাঝ মাঠ থেকে বল বাঁ প্রান্তে পাঠিয়েছিল রিয়াল মিডফিল্ড।বাঁ প্রান্তে বেলের দুর্দান্ত পায়ের কাজে দুই ডিফেন্ডার বিভ্রান্ত হয়ে পড়ায় গোলবার ছেড়ে বেড়িয়ে আসতে হয় গোলরক্ষককে। বেলের পাসে শুধু পা ছোঁয়াতে হয়েছে করিম বেনজেমাকে। প্রথমার্ধে রিয়াল আরও দুবার গোল দেওয়ার সুযোগ পেয়েছিল। কিন্তু সেল্টার গোলরক্ষক দুবারই বাঁচিয়েছে দলকে। ৩০ মিনিটে অবশ্য সুবর্ণ এক সুযোগ হাতছাড়া করেছে সেল্টা ভিগোও।

দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই মদরিচের ওভাবে বিদায় নেওয়ার পরই সমতা ফেরাতে পারত স্বাগতিক দল। কিন্তু আরাহোর জোরালো হেড চমৎকার রিফ্লেক্সে ফিরিয়ে দিয়েছেন কোর্তোয়া। এই সেভই ম্যাচের মোড় ঘুড়িয়ে দিয়েছে। দুই মিনিট পর বেনজেমার হেড পোস্তে লেগে ফিরে গেলেও হাল ছাড়েনি রিয়াল। বেনজেমা, ভিনিসিয়ুস, মার্সেলো ও ক্রুস নিজেদের মধ্যে পাস দিতে দিতে সেল্টার রক্ষণকে প্রথমে অমনোযোগী করে তুলেছিলেন। তারপর ৪০ গজ দূর থেকে কিছুটা ফাঁকা জায়গা বের করে নিয়ে ক্রুস আচমকা এক শট নিয়েছেন। ক্রসবারে লেগে ঢোকা সে বল কোনো গোলরক্ষকের পক্ষে ঠেকানো সম্ভব ছিল না (২-০)।

৮০ মিনিটে রিয়ালের তৃতীয় গোলেও মার্সেলো ও বেনজেমার অবদান রয়েছে। আবারও প্রতিপক্ষের পা থেকে কাসেমিরো বল কেড়ে নিলে সেটা মার্সেলো, বেনজেমার পা ঘুরে আসে ফাঁকায় থাকা লুকাস ভাসকেজের কাছে। বদলি নামা ভাসকেজ গোল করতে কোনো ভুল করেননি। ম্যাচের একদম শেষ মুহূর্তে সান্ত্বনার গোল পেয়েছে সেল্টা। ৮৯ মিনিটে বদলি হিসেবে নেমেছিলেন অভিষিক্ত ইকার লোসাদা। ১৮ বছরের এই কিশোর অভিষেকটা রাঙিয়ে নিয়েছেন ডান প্রান্ত থেকে নেওয়া কোনাকুনি এক শটে।

 

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.