আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল ‘লকডাউন

করোনায় আক্রান্ত ২১ এপিবিএন ও স্পেশাল ব্রাঞ্চের এক সদস্য

0
91
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল

নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের (এপিবিএন) ২১ জন ও স্পেশাল ব্রাঞ্চের একজন সদস্য মহামারি করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল ‘লকডাউন’ ঘোষণা করা হয়েছে।

মঙ্গলবার ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর (প্রশাসন) জেয়াদ আল মালুম সমকালকে এ তথ্য জানিয়েছেন।

জেয়াদ আল মালুম বলেন, করোনাভাইরাসের কারণে গত ২৫ মার্চ থেকে ট্রাইব্যুনাল বন্ধ রয়েছে। এরপরও ট্রাইব্যুনালের ভেতরে থাকা দুটি ব্যারাকে থাকা এপিবিএনের ২১ জন ও পুলিশের বিশেষ শাখার একজনসহ মোট ২২ জন করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। এর আগে কয়েকজনকে চিকিৎসার জন্য ট্রাইব্যুনালের বাইরে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। বর্তমানে ১৯ জন সদস্যকে ট্রাইব্যুনালের ভেতরে প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টাইনে রাখা হয়েছে।

তিনি বলেন, কোনো বিচারপতি, রেজিস্ট্রার, প্রসিকিউটর, তদন্ত কর্মকর্তা ট্রাইব্যুনালে প্রবেশ করতে পারছেন না। এ কারণে পুরো ট্রাইব্যুনাল কার্যত লকডাউন রয়েছে।

এ দিকে, নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা একের পর এক এপিবিএন সদস্য করোনায় আক্রান্ত হওয়ায় ট্রাইব্যুনাল কর্তৃপক্ষ ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে প্রসিকিউশন, তদন্ত সংস্থা, ও ট্রাইব্যুনালের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন। বৈঠকে ট্রাইব্যুনালকে করোনামুক্ত রাখতে কী কী পদক্ষেপ নেওয়া যায় সে বিষয়ে আলোচনা হয়। এর আগে গত ২৪ ও ২৭ এপ্রিল ব্যারাকের তিন সদস্য করোনা পজেটিভ শনাক্ত হন। সে সময় ট্রাইব্যুনালের একটি ব্যারাক লকডাউন করা হয়েছিল।

জানা গেছে, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে একজন চেয়ারম্যান (বিচারপতি), দুইজন সদস্য (বিচারপতি), রেজিস্টার অফিস, এজলাস কক্ষ, হাজতখানা, অস্ত্রাগার, দুটি গেট, প্রসিকিউশন কার্যালয়সহ সার্বিক নিরাপত্তার দায়িত্বে রয়েছে পুলিশের তিন সংস্থা। এরমধ্যে ডিএমপি পুলিশ ৪ জন, এসবি সদস্য ৪১ জন ও এপিবিএনের ৭০ জন সদস্য বিভিন্ন শিফটে দায়িত্ব পালন করেন।

একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধের সময় স্বাধীনতা বিরোধী রাজাকারদের বিচারের জন্য ২০১০ সালে গঠন করা হয় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। ইতিমধ্যে এ ট্রাইব্যুনালে ৪২ মামলায় ৯৬ যুদ্ধাপরাধীর বিভিন্ন মেয়াদে দণ্ড হয়েছে।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে