আজ পদ্মা সেতু আড়াই কিলোমিটার দৃশ্যমান

0
253
পিয়ার ২২ ও ২৩-এর ওপর মূল সেতুর ১৭তম স্প্যানটি আজ মঙ্গলবার বসানো হয়। ছবি: সংগৃহীত

মাত্র সাত দিনের ব্যবধানে পদ্মা সেতুর আরও একটি স্প্যান বসানো হলো। আজ মঙ্গলবার বেলা সোয়া দুইটায় পিয়ার ২২ ও ২৩ এর ওপর মূল সেতুর ১৭তম স্প্যানটি বসানো হয়। স্প্যানটি বসানোর পর ৬ দশমিক ১৫ কিলোমিটার দীর্ঘ সেতুর ২৫৫০ মিটার (২ দশমিক ৫৫ কিলোমিটার) অংশ এখন দৃশ্যমান।

পদ্মা সেতু প্রকল্প সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, ১৫০ মিটার দীর্ঘ স্প্যানটি চর এলাকায় অস্থায়ীভাবে সংরক্ষিত ছিল। সেখান থেকে ভাসমান ক্রেন দিয়ে তুলে ২২ ও ২৩ নম্বর পিয়ারের ওপর এই স্প্যান বসানো হয়। ১৯ নভেম্বর ১৬তম স্প্যান ২৪ ও ২৫ নম্বর পিয়ারের ওপর বসানো হয়। এর মাত্র সাত দিন পর আজ আবার পদ্মা সেতুর আরও একটি স্প্যান বসানো হলো। এর আগে এত দ্রুত সময়ের মধ্যে স্প্যান বসানো হয়নি।

পদ্মা সেতু প্রকল্পের ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা বলেন, ২১ ও ২২ নম্বর পিয়ারে আরেকটি স্প্যান বসানোর প্রস্তুতিও জোরেশোরে চলছে। ৩০ নভেম্বর স্প্যানটি বসানোর দিন নির্ধারণ করা ছিল। তবে এটি ডিসেম্বর মাসের প্রথম সপ্তাহে বসানো হবে। আগামী মাসে আরও দুই থেকে তিনটি স্প্যান বসানো হবে। এখন থেকে প্রতি মাসে এই গতিতেই স্প্যান বসানোর পরিকল্পনা রয়েছে। জুন মাসের মধ্যে পুরো পদ্মা সেতু দৃশ্যমান করার লক্ষ্যে কাজ চলছে।

পিয়ার ২২ ও ২৩-এর ওপর মূল সেতুর ১৭তম স্প্যানটি আজ মঙ্গলবার বসানো হয়। ছবি: সংগৃহীত

জানা গেছে, মূল পদ্মা সেতুর ৪২টি পিয়ারের ওপর বসানো হবে ৪১টি স্প্যান। আরও পাঁচটি স্প্যান পুরোপুরি প্রস্তুত। তিনটি স্প্যান রং করা হচ্ছে। আরও ৮টি স্প্যান মাওয়ার কুমারভোগ কনস্ট্রাকশন ইয়ার্ডে প্রস্তুত করার কাজ চলছে। বাকি নয়টি স্প্যান দ্রুতই চীন থেকে চলে আসবে। এগুলো মার্চ মাসের মধ্যে পুরোপুরি প্রস্তুত হয়ে যাবে। সেতুর ৪২টি পিয়ারের মধ্যে ৩৩টির সম্পূর্ণ তৈরি হয়ে গেছে। বাকি ৯টি পিয়ারের ক্যাপিং (ওপরের অংশ) করা হচ্ছে। আজ রাতে আরও একটি পিয়ারের ওপরের অংশ ঢালাইয়ে কাজ শেষ হবে। স্প্যানের মতো এসব পিয়ারের নির্মাণ সম্পন্ন হবে আগামী মার্চে। তাই এখন থেকে প্রতি মাসে দুটি থেকে তিনটি স্প্যান বসানো হবে। সব মিলিয়ে আগামী জুন মাসের মধ্যে পুরো পদ্মা সেতু দৃশ্যমান করার লক্ষ্যে কাজ চলছে বলে জানিয়েছে পদ্মা সেতু কর্তৃপক্ষ।

পিয়ার ২২ ও ২৩-এর ওপর মূল সেতুর ১৭তম স্প্যানটি আজ মঙ্গলবার বসানো হয়। ছবি: সংগৃহীত

মূল সেতু নির্মাণে চীনের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান চায়না মেজর ব্রিজ ইঞ্জিনিয়ারিং কনস্ট্রাকশন কোম্পানি। আর নদী শাসনের কাজ করছে চীনের আরেক প্রতিষ্ঠান সিনোহাইড্রো করপোরেশন। দুই প্রান্তে টোল প্লাজা, সংযোগ সড়ক, অবকাঠামো নির্মাণ করছে দেশীয় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে