আক্রান্ত সদস্যদের দেখভালে পুলিশের ‘বিশেষ টিম’

0
81
পুলিশ

চলমান করোনাযুদ্ধে মাঠ পর্যায়ে দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে এরই মধ্যে দেড় হাজারের বেশি পুলিশ সদস্য করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। যা দেশের মোট আক্রান্তের প্রায় ১০ শতাংশ। এখন পর্যন্ত পুলিশের ছয় সদস্য মারা গেছেন। এমন পরিস্থিতিতে আক্রান্ত সদস্যদের চিকিৎসায় দেখভাল এবং সার্বিক কল্যাণে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে ‘বিশেষ টিম’ গঠন করা হয়েছে। এই টিম স্বাস্থ্যবিধি মেনে হাসপাতালে গিয়ে আক্রান্ত সদস্যদের খোঁজ নিচ্ছে। এর বাইরে তাদের পরিবারের সার্বিক খোঁজ-খবরও নেওয়া হচ্ছে। আইজিপি ড. বেনজীর আহমেদের নির্দেশে এই বিশেষ টিম গঠন করা হয়েছে।

পুলিশ সদর দপ্তরের কর্মকর্তারা বলছেন, প্রায় প্রতিদিনই রাজধানীর রাজারবাগে কেন্দ্রীয় পুলিশ হাসপাতালে আক্রান্ত সদস্যের ভিড় বাড়ছে। এমন পরিস্থিতি সেখানে চাপ কমাতে তেজগাঁওয়ে ২৫০ শয্যার বেসরকারি ইমপালস হাসপাতাল ভাড়া নেওয়া হয়েছে। এর বাইরে দেশের ছয়টি বিভাগীয় শহরেও করোনা আক্রান্ত পুলিশ সদস্যদের চিকিৎসার জন্য হাসপাতাল ভাড়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

পুলিশ সদর দপ্তরের এআইজি (মিডিয়া) মো. সোহেল রানা বলেন, বাহিনীর করোনা আক্রান্ত সদস্যদের সার্বিক কল্যাণের জন্য পুলিশ প্রধান ড. বেনজীর আহমেদ বহুমাত্রিক পদক্ষেপ নিয়েছেন। তিনি পুলিশের প্রত্যেক ইউনিটে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে ‘বিশেষ টিম’ গঠনের নির্দেশ দিয়েছেন। তা ছাড়া আইজিপি ব্যক্তিগতভাবে ইউনিট প্রধানদের সঙ্গে প্রতিনিয়ত কথা বলে খোঁজ নিচ্ছেন এবং প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দিচ্ছেন।

তিনি বলেন, বিশেষ টিমের সদস্যরা নিরাপদ দূরত্ব বজায় রেখে স্বশরীরে উপস্থিত হয়ে করোনা আক্রান্ত প্রত্যেক সদস্যের চিকিৎসাসহ সার্বিক বিষয়ে খোঁজ-খবর নিচ্ছেন। তারা হাসপাতাল কিংবা আইসোলেশনে থাকাকালে তাদের বিভিন্ন সমস্যার কথা জেনে তাৎক্ষণিকভাবে সমাধানের উদ্যোগ নেবেন এবং পদমর্যাদা নির্বিশেষে প্রত্যেক সদস্য যাতে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা পান সেটি নিশ্চিত করতে কার্যকর উদ্যোগ নেবেন।

ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) এক কর্মকর্তা বলেছেন, ডিএমপির আক্রান্ত সদস্যদের চিকিৎসাসহ সার্বিক বিষয়ে প্রত্যক্ষভাবে তত্ত্বাবধান করছেন ডিএমপি কমিশনার শফিকুল ইসলাম। তার নির্দেশে গত শুক্রবার ডিএমপি গঠিত বিশেষ টিমের সদস্যরা রাজারবাগে কেন্দ্রীয় পুলিশ হাসপাতাল ও হাসপাতালের বর্ধিতাংশ ডিএমপির ট্রাফিক ব্যারাক পরিদর্শন করেছেন। করোনা আক্রান্ত পুলিশ সদস্যরা এই বিশেষ টিমকে সামনে পেয়ে উজ্জীবিত হন এবং তাদের বিভিন্ন সমস্যার কথা জানান। বিশেষ টিম তাৎক্ষণিকভাবে সেগুলো সমাধানে উদ্যোগ নেয়।

পুলিশ সদর দপ্তরের একজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, যেসব সদস্য হাসপাতালে ভর্তি বা আইসোলেশনে রয়েছেন, তাদের পরিবারের সদস্যদের ফোন করে খোঁজ রাখা হচ্ছে। তাদের নিত্যপণ্যসহ কিছু প্রয়োজন হলে তা পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে।

পুলিশ সদর দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গতকাল শনিবার পর্যন্ত সারাদেশে পুলিশের এক হাজার ৫৩২ সদস্য করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। শুধু ডিএমপিতেই রয়েছেন ৭২৩ জন। এর বাইরে আইসোলেশনে রয়েছেন এক হাজার ৮৯ জন এবং কোয়ারেন্টাইনে রয়েছেন দুই হাজার ৮৭০ জন। গতকাল পর্যন্ত সুস্থ হয়ে বাসায় ফিরেছেন ১১৬ জন।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে