‘আকাশ প্রদীপ পূজা’য় রাজবন বিহারে হাজার হাজার পূণ্যার্থী

0
2733
আকাশ প্রদীপ প্রজ্জলন অনুষ্ঠানে হাজার হাজার বাতি জ্বালানো হয়। মাসব্যাপী অনুষ্ঠানের আজ চতুর্থ দিন। রাজবন বিহার, রাঙ্গামাটি।

হাজার হাজার পূণ্যার্থীদের সমাগমে রাজবন বিহারে আকাশ প্রদীপ প্রজ্জলন করা হয়েছে। আজ বন্ধের দিন থাকায় আকাশ বাতি দেখার জন্য ও পূণ্য সঞ্চয়ের উদ্দেশ্যে অসংখ্য নর নারীতে রাঙ্গামাটির রাজবন বিহার প্রাঙ্গন কানায় কানায় পরিপূর্ণ ।

আজ শুক্রবার ১৫ নভেম্বর মাসব্যাপী আকাশ প্রদীপ প্রজ্জলনের চতুর্থ দিন।গত ১২ নভেম্বর কার্তিক পূর্ণিমা হতে অগ্রাহায়নের পূর্ণিমা তিথি পর্যন্ত এ অনুষ্ঠান চলছে। তাবতিংশ স্বর্গে দেবরাজ ইন্দ্র মাসব্যাপী বুদ্ধের কেশ ধাতু ও পরিনির্বাণের পর দন্তধাতুর পূজা করে থাকেন। সেই উপলক্ষকে উদ্দেশ্য করে বনভান্তে এ আকাশ প্রদীপ অনুষ্ঠান চালু করতে বলেন।

আজ অনুষ্ঠানে দেশনা দানকালে জ্ঞান প্রিয় ভান্তে।

২০০০সাল হতে রাজবন বিহারে এ আকাশ প্রদীপ পূজা রাজবন বিহারে চালু হয়।

রাজবন বিহারে শ্রীমৎ সাধনানন্দ মহাস্থবির বনভান্তে শিষ্য শ্রীমৎ জ্ঞানপ্রিয় মহাস্থবিরসহ অন্যান্য ভিক্ষুসংঘ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। জ্ঞানপ্রিয় মহাস্থবির ভান্তে ধর্মদেশনা কালে এ সব তথ্য উল্লেখ করেন। তিনি আকাশ প্রদীপ পূজার ইতিহাস ও রাজবন বিহারে প্রচলনের জন বনভান্তের অভিপ্রায়ের কথা তুলে ধরেন।

আজ এ উপলক্ষে সংঘদান বুদ্ধ মুর্তিদান, আকাশ প্রদীপদান, হাজারবাতিদান, বিশ্বশান্তি প্যাগোডার উদ্দেশ্যে টাকাদান সহ নানাবিধ দানীয় সামগ্রী দান ও উৎসর্গ করা হয়।

অনুষ্ঠানে হাজার হাজার পূণ্যার্থীদের ভিড়ে রাজবন বিহার প্রাঙ্গণ কানায় কানায় পরিপূর্ণ।

এ অনুষ্ঠান দেখার জন্য বহু পর্যটকের উপস্থিতি দেখা যায়।হাজার হাজার প্রদীপের মাঝে নিজের উপস্থিতি স্মৃতিতে রাখার জন্য ছবি তোলা উৎসবে পরিণত হয় রাজবন বিহার প্রাঙ্গন।

আকাশ প্রদীপ পূজা অনুষ্ঠানে পূণ্যার্থীদের একাংশ।

কাশ প্রদীপ দানের মাহাত্ম্য

=====================

১. যত যত দান আছে, আনন্দ সকল পুছে,
নিস্তার করিতে জীবগণ।

২. দয়া কর সেবকেরে, ইচ্ছা বড় শুনিবারে,
কৃপা করি করহ্ বর্ণন।

৩. তোমার মহিমা যত, তা বা কহিব কত,
তুমি প্রভু সবার তারন।

৪. সাগর অবধি যত, পাপীগণ শত শত,
মুক্তি সবে কর বিতরণ।

৫. তুমি কৃপা কর যারে, সেই জন চলে সত্বরে,
কিবা স্বর্গ নির্বাণের ঠাঁই।

৬. তুমি যে চালাও যথা, জীব সব চলে তথা,
তুমি ভিন্ন আর কেহ নাই।

৭. তুমি শশী, তুমি রবি, তুমি জ্ঞানী, তুমি যোগী,
বৈদ্যরূপী তুমি ভগবান।

৮. তুমি কৃপা কর যারে, সে যায় নির্বাণ পাড়ে,
ছাড়াইয়া ভবের বন্ধন।

৯. ধর্ম পুরাবৃত্ত কথা, শ্রবণে অমৃত গাথা,
পদ বন্ধে করি বিচরণ।

১০. আনন্দ কহিল যদি এতেক স্তবন,
কহিতে লাগিল বুদ্ধ প্রফুল্ল বদন।

১১. আর এক কথা বলি শুন দিয়ে মন,
বুদ্ধের সম্মুখে দীপ দিবে যেই জন।

১২. ঘৃত তৈল অথবা যে দিবে মোমবাতি,
যেবা দিবে তিল তৈল শুন তার কীর্তি।

১৩. তিন কল্প থাকে সেই ইন্দ্রের নগরে,
বহুবার চক্রবর্তী রাজা হবে সংসারে।

১৪. কার্তিকের চাঁদে দিবে আকাশ প্রদীপ,
শত কল্প থাকে সেই ব্রহ্মার সমীপ।

১৫. দিব্যজ্ঞান,দিব্যচক্ষু,দিব্য কলেবর,
নরকুলে জন্মে সেই হয়ে সাধু নর।

১৬. হীনকুলে জন্ম না হবে কোনো কালে,
চক্রবর্তী রাজা হবে এই মহিমন্ডলে।

১৭. আকাশ প্রদীপ যে মানব তুলিবে,
কোনো কালে সেইজন নরকে না যাবে।

১৮. অন্তকালে যাবে সেই ব্রহ্মার ভূবন,
কতেক কহিব তাঁর পুণ্যের কথন।

১৯. এত শুনি রাহান্তারা করে জিজ্ঞাসন,
আকাশ প্রদীপ দিবে কীসের কারণ?

২০. সেই কথা বিস্তারিয়া কহ মহাশয়,
তব মুখে শুনি সব ঘুচিবে সংশয়।

২১. রাহান্তাগণের এত শুনিয়া বচন,
কহিলেন শ্রী আনন্দ কথা পুরাতন।

২২. দেবপুরে চুলামণি নামে চৈত্য আছে,
আকাশ প্রদীপ দেওয়া সেই চৈত্যের কাছে।

২৩. সংসার ত্যজিয়া যবে বুদ্ধ ভগবান,
রাত্রি যোগে করিলেন কাননে প্রস্থান।

২৪. প্রভাতে অনোমাতীরে হয়ে উপনীত,
কাটিল চিকুর তরবারে হস্ত স্থিত।

২৫. হস্তে লইয়া সেই চুল উর্ধ্বে উড়াইল,
কুসুম ঝড়ের মত উঠিতে লাগল।

২৬. অন্তরিক্ষে থাকি তা দেখি পুরন্দর,
সাদরে লইয়া গিয়ে আপন নগর।

২৭. বিহার যোজন সপ্ত উচ্চ পরিমাণ,
চুল স্থবিবারে ইন্দ্র করিল নির্মাণ।

২৮. নানা চিত্র-বিচিত্র করে সুগঠন,
সেই বিহারে বুদ্ধ কেশ করিল স্থাপন।

২৯. চুলামণি বলি নাম বিখ্যাত হল,
যত দেবগণ মিলি এই নাম রাখিল।

আকাশ প্রদীপ পূজা অনুষ্ঠানে পূণ্যার্থীদের একাংশ।

প্রার্থনা
=========

১. কায় বাক্য মনে পাপ করিয়া বর্জন,
সবিনয়ে শ্রীচরণে এই নিবেদন।

২. তব জ্ঞান জেনেছি ওহে ভগবান,
কামলোক,রূপলোক,অরূপ ভূবন।

৩. এ তিন ভূবন হতে মুক্তি লাভ তরে,
দানশীল ভাবনাদি করিনু সাদরে।

৪. যা পুণ্য লাভ মোর হল এতে,
বার বার প্রণামিয়া যাচি ভক্তি চিত্তে।

৫. অসাধু সনেতে বাস না করি কখন,
সাধু সঙ্গ লাভ যেন করি আজীবন।

৬. নির্বাণ ধর্ম শুনি বুদ্ধের সাক্ষাতে,
প্রব্রজ্যা হোক লাভ যেন বুদ্ধের ছায়াতে।

৭. ঋদ্ধিময় চীবরাদি অষ্ট উপাচার,
হোক পুণ্যের ফল যাচি বার বার।

৮. তারপর স্রোতাপত্তি লাভ মার্গ আর ফল,
সকৃদাগামী ও অনাগামী মার্গফল।

৯. অরহত মার্গফল লভিতে তখন,
চরণে নির্বাণ লাভ যাচি ভগবান।

১০. আমার সঞ্চিত পুণ্য যা হলো এখন,
গ্রহণ করহ এবে সর্ব সত্ত্বগণ।

১১. লভি এই পুণ্যফল কর আশীর্বাদ,
অনির্বাণ পুণ্য মম না হয় প্রমাদ।

সুখী হও সুখী হও এই মৈত্রী ভাবনা।
দিবানিশি হিতসুখ করিনু প্রার্থনা।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে