‘আঁরার মাইয়া, আঁরার গর্ব’

সাফজয়ী পাঁচ ফুটবলারকে চট্টগ্রামে সংবর্ধনা

0
54
চট্টগ্রামে সংবর্ধনায় সাফজয়ী পাঁচ ফুটবলার

লাল সবুজের পতাকা উড়িয়ে ছুটছে খোলা ছাদের জিপ। তাতে দাঁড়ানো পাঁচ পাহাড়ি কন্যা। মুখে তাদের উছলে পড়ছে হাসি। হাত নাড়িয়ে রাস্তার দু’পাশে দাঁড়ানো মানুষের অভিবাদনের জবাব দিচ্ছেন তারা। জিপটি অনুষ্ঠানস্থলে পৌঁছাতেই বেজে ওঠে উৎসবের ঢাক। ঘিরে ধরেন উচ্ছ্বসিত দর্শকরা। কেউ তোলেন সেলফি। কেউ জানান অভিনন্দন। দেওয়া হয় জয়ধ্বনি। মঞ্চে উঠতেই পরিয়ে দেওয়া হয় লাল গোলাপের মালা। তুলে দেওয়া হয় সম্মাননা। প্রশংসায় ভাসিয়েছেন অতিথিরাও। এভাবেই বীর কন্যাদের বরণ করে নিয়েছে বীর চট্টলা।

বুধবার বিকেলে নগরীর জামালখানে সাফজয়ী বৃহত্তর চট্টগ্রামের পাঁচ কন্যার জন্য সংবর্ধনার আয়োজন করে স্থানীয় দৈনিক আজাদী। ‘আঁরার মাইয়া, আঁরার গর্ব’ শিরোনামে আয়োজিত অনুষ্ঠানে অংশ নেন রাঙামাটির রূপনা চাকমা ও ঋতুপর্ণা চাকমা, খাগড়াছড়ি জেলার মনিকা চাকমা এবং জমজ দুই বোন আনাই মগিনী ও আনুচিং মগিনী। অনুষ্ঠানের সহযোগিতায় ছিল ওয়েল গ্রুপ, সিমনি শিপিং লাইন্স লিমিটেড ও স্থানীয় ওয়ার্ড কাউন্সিলর শৈবাল দাশ সুমন।

ঢাকা থেকে সকালে শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছালে পাঁচ ফুটবলারকে স্বাগত জানায় আজাদী পরিবার। সেখান থেকে চট্টগ্রাম ক্লাবে এসে বিশ্রাম নেন তারা। বিকেলে চট্টগ্রাম ক্লাব থেকে মোটরসাইকেল শোভাযাত্রার মাধ্যমে নিয়ে যাওয়া হয় জামালখানে। এসময় রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে লোকজন পাঁচ বীর কন্যাকে হাত নেড়ে অভিবাদন জানান। তারাও হাসিমুখে অভিবাদনের জবাব দেন।

জাতীয় সঙ্গীতের মধ্যে দিয়ে শুরু হয় অনুষ্ঠান। ফুলের মালা পরিয়ে বরণ করে নেওয়া হয় কৃতি ফুটবলারদের। প্রধানমন্ত্রীর জন্মদিন উপলক্ষে কাটা হয় ঢাউস সাইজের কেক। তুলে দেওয়া হয় এক লাখ টাকা করে সম্মাননার প্রতীকী চেক। এরপর অনুভূতি ব্যক্ত করেন পাঁচ কন্যা। তাদের প্রশংসায় ভাসান উপস্থিত অতিথিরাও।

লায়ন্স ক্লাবের সাবেক জেলা গভর্নর কামরুন মালেক বলেন, ‘মেয়েদের পথ চলা সহজ ছিল না। দুর্গম পথ পাড়ি দিয়ে জীবনের সঙ্গে যুদ্ধ করে মেয়েরা জয়ী হয়েছেন। অদম্য সাহস ও মনোবলের সঙ্গে সব প্রতিবন্ধকতা পেরিয়ে অনুশীলন চালিয়ে গেছেন। সেই পরিশ্রমের ফল পেয়েছেন তারা।’ অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, এই মেয়েরা বাংলাদেশের মাথা উঁচু করে দিয়েছে। তাদের হাত ধরে একদিন এশিয়া ও বিশ্বজয় করবে বাংলাদেশ।

ভক্তদের উদ্দেশে ফুটবলার ঋতুপর্ণা চাকমা বলেন, ‘আমরা গর্বিত। খুব ভালো লাগছে, আনন্দ লাগছে। এ আনন্দ প্রকাশের ভাষা নেই। আজ খুশীর দিন। আপনারা পাশে ছিলেন। ভবিষ্যতেও পাশে থাকবেন। আপনাদের সীমাহীন সমর্থন আগামী দিনেও আমাদের মনোবল দৃঢ় করবে।’

আজাদী সম্পাদক এম এ মালেকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন নগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন, চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের সাবেক চেয়ারম্যান আবদুচ ছালাম, চট্টগ্রামের বিভাগীয় কমিশনার আশরাফ উদ্দিন, চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার কৃষ্ণ পদ রায়, দৈনিক আজাদীর পরিচালনা সম্পাদক ওয়াহিদ মালেক, চিফ রিপোর্টার হাসান আকবর ও জামালখান ওয়ার্ড কাউন্সিলর শৈবাল দাশ সুমন, বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের ন্যাশনাল টিম কমিটি ও উইমেন উইংসের সদস্য মনজুর আলম, ব্যবসায়ী মোহাম্মদ ইমরান ও নিশাত ইমরান।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.