অসহায় মানুষের হাসিই তাঁর জীবনের সুখ

0
165
আইনজীবী তুতুল বাহার।

২০০৩ সালে পাচারকারীর খপ্পরে পড়ে অভিভাবকহারা হয় দুই বছর বয়সী এক ছেলে শিশু। স্থান হয় সরকারি শিশু পরিবারে (সেফ হোম)। অনেক খোঁজাখুঁজির পরও মেলেনি অভিভাবকের সন্ধান। একপর্যায়ে শিশুটির জন্য মমতার হাত বাড়িয়ে দেন আইনজীবী তুতুল বাহার। আদালতের মাধ্যমে জিম্মা নিয়ে তাকে লালন-পালন করছেন। সেই ছেলেটি এখন পড়ছে দশম শ্রেণিতে।

সেফ হোমে বড় হওয়া ১৯ বছরের আরেক তরুণীর দায়িত্বও নিয়েছেন তুতুল। ওই তরুণী ৪ বছর বয়সে হারিয়ে যান। গত ২২ জুলাই আদালতের মাধ্যমে তাঁকে জিম্মায় নেন তুতুল। পরে তাঁকে চাকরির ব্যবস্থা করে দিয়েছেন তৈরি পোশাক কারখানায়।

শুধু এ দুজনই নয়, ২২ বছরের আইনি পেশায় শতাধিক অভিভাবকহীন নারী-শিশুকে জিম্মায় নিয়ে নিজের বাসায় রেখেছেন তুতুল বাহার। অসহায় মানুষের পক্ষে বিনা মূলে৵ মামলা লড়েছেন ২০ হাজারের বেশি।

চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. আইয়ুব খান চট্টগ্রামের ‘মাদার তেরেসা’ হিসেবেই আখ্যায়িত করলেন তুতুল বাহারকে। তুতুল ১৯৯৫ সালে আইন পেশায় যুক্ত হন।

কারা সূত্র জানায়, পারিবারিক বিরোধের মামলায় ১৪ বছর কারাগারে থাকা সাতকানিয়ার মনু মিয়ার পক্ষে মামলা লড়েন তুতুল বাহার। ১৯৯৫ সালে তাঁকে কারাগার থেকে মুক্ত করেন। পরে এই মামলা থেকে খালাস পান মনু মিয়া। পরের বছর চট্টগ্রামের এক নির্বাচনী কর্মকর্তা গৃহকর্মীকে ধর্ষণ করলে ওই গৃহকর্মীর ছেলেসন্তান হয়। তার পাশে দাঁড়ান তুতুল বাহার। নগরের বগারবিল এলাকায় থাকা ওই নারী বললেন, ‘তাঁর ছেলেটি বড় হয়ে এখন চাকরি করছে। সেই দিন আপা (তুতুল বাহার) না থাকলে মা-ছেলে দুজনই হয়তো এত দিন বেঁচে থাকতে পারতাম না।’

নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৩-এর সরকারি কৌঁসুলি নজরুল ইসলাম বললেন, তাঁর (তুতুলের) কার্যক্রমের প্রতি সন্তুষ্ট হয়ে আদালত অভিভাবকহীন নারী ও শিশুদের তাঁর জিম্মায় দিচ্ছেন।

নগরের পাঁচলাইশ বাদুড়তলায় থাকেন তুতুল বাহার ও তাঁর বড় বোন লুলুল বাহার। দুজনের কেউই বিয়ে করেননি। অসহায় নারী-শিশুরাই তাঁদের পরিবারের সদস্য। গত এপ্রিল মাসে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৬ সাথী আক্তারকে তুতুলের জিম্মায় দেন। এ বাসায় সাথীও আছেন।

তুতুল বাহার বললেন, অসহায় মানুষের জন্য কাজ করে তার বিনিময়ে চাওয়া-পাওয়ার কিছুই নেই। অসহায় মানুষের হাসি থেকে জীবনের সুখ খুঁজে পান তিনি।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে