অবশেষে সেতু দিয়ে সড়কপথে যুক্ত হচ্ছে শীতলক্ষ্যার দুই পাড়ের মানুষ

0
78

এদিকে সেতু উদ্বোধন উপলক্ষে প্রশাসনে পক্ষ থেকে সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে। তৃতীয় শীতলক্ষ্যা সেতু বিভিন্ন রঙের পতাকা দিয়ে সাজানো হয়েছে। ব্যানার, ফেস্টুনে ছেয়ে গেছে পুরো সেতু এলাকা। সাজ সাজ রব নদীর দুই পাড়ে। লোকজনের মধ্যে আনন্দ। সেতু এলাকায় ভিড় করছেন লোকজন। বন্দর উপজেলার ফরাজিকান্দা টোল প্লাজা অংশে মঞ্চ প্রস্তুত করা হয়েছে।

সেখানে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে সেতুর উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। নারায়ণগঞ্জের অংশেও সাজানো হয়েছে।

মদনগঞ্জ এলাকার বাসিন্দা ব্যবসায়ী শফিউদ্দিন শফু বলেন, ট্রলারে দুর্ঘটনা ও প্রাণহানি ঘটত। ঝুঁকি নিয়ে পারাপার হতে হতো। আগে সড়কপথে মদনপুর হয়ে রাজধানীতে যেতে দুই থেকে আড়াই ঘণ্টা সময় লাগে। এখন এক ঘণ্টার কম সময়ে বন্দরের মানুষ ঢাকায় যেতে পারবেন।

রাতে রোগী নিয়ে হাসপাতালে যেতে সহজে নৌকা পাওয়া যেত না বলে নিজের ভোগান্তির কথা জানান কাউসার আহমেদ। তিনি বলেন, রোগী নিয়ে অনেক কষ্ট করে হাসপাতালে নিতে যেতে হতো। অনেক সময় পথেই রোগী মারা যেত। এখন সহজেই দিন ও রাতে লোকজন পারাপার হতে পারবে।

সেতু হওয়াতে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড বাড়বে আশা প্রকাশ করে কলাগাছিয়া এলাকার বাসিন্দা জাভেদ আলী বলেন, তাঁদের এলাকার বহু মানুষ শহরে গিয়ে ব্যবসা ও চাকরি করেন। সেতু হওয়াতে এখানে শিল্পকারখানা গড়ে উঠবে, কর্মসংস্থানের সৃষ্টি হবে।

শহরের পুরাতন সৈয়দপুর এলাকার বাসিন্দা মোস্তফা মিয়া বলেন, বহু বছরের প্রত্যাশা ছিল এই শীতলক্ষ্যা সেতুর। প্রতিদিন লক্ষাধিক মানুষ নৌকা ও ট্রলারে খেয়া পারাপার হতো। এখন শহরের সঙ্গে বন্দরের যোগাযোগ সহজ হবে। ভোগান্তির অবসান হবে।

সেতুর প্রকল্প পরিচালক শোয়েব আহমেদ বলেন, সেতুর সব কাজ সম্পন্ন হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধনের পর সেতুটি যানবাহন চলাচলের জন্য খুলে দেওয়া হবে।

বন্দর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা কুদরতে খুদা বলেন, দক্ষিণ ও পূর্বাঞ্চলের যানবাহন এই সেতু দিয়ে পদ্মা সেতুতে উঠতে পারবে। একইভাবে পদ্মা সেতু দিয়ে আসা যানবাহন মোক্তারপুর সেতু পার হয়ে এই সেতু দিয়ে নারায়ণগঞ্জ শহর ও রাজধানীতে না ঢুকে সহজেই দক্ষিণ ও পূর্বাঞ্চলে যেতে পারবে।

সেতুর প্রকল্প সূত্রে জানা গেছে, শীতলক্ষ্যা নদীর পশ্চিমপাড় নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার সৈয়দপুরের সঙ্গে নদীর পূর্বপাড় বন্দর উপজেলার মদনপুর এলাকায় সেতুটির নির্মাণকাজ করেছে চীনের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান সিনো হাইড্রো করপোরেশন। চার লেনের মূল সেতু ১ হাজার ২৩৪ মিটার দৈর্ঘ্যের, সেতুতে মোট স্প্যানের সংখ্যা ৩৮। মূল নদীতে স্প্যান পাঁচটি। সেতুর পশ্চিম ও পূর্ব পাড়ে সড়কে ৩৩টি স্প্যান আছে।

এ ছাড়া অটোরিকশা ও ধীরগতির যানবাহনের জন্য আলাদা দুটি লেন আছে। ফুটপাতসহ সেতুর প্রশস্ততা ২২ দশমিক ১৫ মিটার। সেতু এলাকায় ৬ লেন টোল প্লাজা এবং দেড় কিলোমিটার অ্যাপ্রোচ সড়ক আছে। এই সেতুকে জাতীয় পার্টির প্রয়াত সংসদ সদস্য ‘বীর মুক্তিযোদ্ধা এ কে এম নাসিম ওসমান তৃতীয় শীতলক্ষ্যা সেতু’ নামকরণ করেছে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.