অপহৃত শিশু কান্নাকাটি শুরু করায় শ্বাসরোধে হত্যা

0
91
শিশু শারমীন

দিনমজুর মাহবুব ও রাব্বী বেশ কিছুদিন ধরেই বেকার সময় কাটাচ্ছিল। ফলে তাদের হাতে কোনো টকা-পয়সা ছিল না। পরে দুই বন্ধু প্রতিবেশি হোটেল ব্যবসায়ী জাহাঙ্গীর আলমের সাড়ে ৫ বছরের মেয়ে শারমীন সুলনাতাকে অপহরণ করে মুক্তিপণ আদায়ের পরিকল্পনা করে। এরপর তারা শিশু শারমীনকে বিস্কুট দেওয়ার কথা বলে নিজেদের ঘরে নিয়ে যায়। এ সময় ভয় পেয়ে সে কান্না শুরু করলে তাকে শ্বাসরোধে হত্যার পর লাশ টয়লেটে লুকিয়ে রাখে তারা।

শনিবার বিকেলে গাজীপুর সদরের বাঘের বাজার বানিয়ারাচালা এলাকার ওই বাসার টয়লেট থেকে লাশটি উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় মাহবুব ও রাব্বীকে আটক করা হয়েছে।

পুলিশ জানায়, কাপাসিয়ার নলগাঁও গ্রামের জাহাঙ্গীর আলম পরিবার নিয়ে বানিয়ারচালা এলাকায় ভায়া বাসায় থাকেন ও খাবার হোটেলের ব্যবসা করেন। ওই বাসার পাশেই অন্য আরেকটি বাসায় ভাড়া থাকেন দিনমজুর মাহবুব ও রাব্বী। করোনাভাইরাসের কারণে কয়েকদিন ধরেই তাদের হাতে কোনো কাজ ছিল না। অর্থ সংকটের এই সময়ে জাহাঙ্গীরের মেয়ে শারমীনকে অপহরণ করে ৩ লাখ টাকা মুক্তিপণ আদায়ের পরিকল্পনা করে তারা। শনিবার সকালে বাড়ির পাশে শারমীন একা একা খেলা করছিল। পরিকল্পনা মতো বিস্কুট দেওয়ার কথা বলে শিশুটিকে নিজেদের ঘরে নিয়ে যায় মাহবুব ও রাব্বী। এক পর্যায়ে মেয়েটি কান্নাকাটি শুরু করলে তাকে শ্বাসরোধে হত্যা করে লাশ টয়লেটে লুকিয়ে রাখে তারা। এরপর জাহাঙ্গীরকে টেলিফোন করে মেয়ের মুক্তিপণ হিসেবে ৩ লাখ টাকা দাবি করে। এদিকে স্বজনরা খোঁজাখুঁজির এক পর্যায়ে ওই ঘরের ভেতর টয়লেটে শারমীনের লাশ যায়। এরপর পুলিশে খবর দেয় তারা।

জয়দেবপুর থানার ওসি মো. জাবেদুল ইসলাম বলেন, ‘মুক্তিপণ আদায়ের জন্য মেয়েটিকে অপহরণ করা হয়। পরে তার কান্না থামাতে না পেরে বিষয়টি জানাজানি হওয়ার আশঙ্কা থেকে তাকে হত্যা করা হয়। মাহবুব ও রাব্বীকে আটক করা হয়েছে।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে