অধ্যক্ষকে পানিতে ফেলায় গ্রেফতার আরও ৪

0
213
রাজশাহী পলিটেকনিক ইন্সটিটিউট ক্যাম্পাসে পুলিশের অবস্থান

রাজশাহী পলিটেকনিক ইন্সটিটিউটের অধ্যক্ষ প্রকৌশলী ফরিদ উদ্দীন আহম্মেদকে লাঞ্ছনার ঘটনায় আরো চারজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

রোববার রাতে মহানগরীর বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করা হয়। এ নিয়ে এই ঘটনায় মোট নয়জনকে গ্রেফতার করলো পুলিশ। তবে মামলার এজাহারভুক্ত আসামিদের এখনো গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ।

মহানগরীর চন্দ্রিমা থানার ওসি গোলাম মোস্তফা জানান, আটকরা সবাই ছাত্রলীগের নেতাকর্মী। সিসিটিভির ফুটেজ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের সঙ্গে কথা বলে তাদের চিহ্নিত করা হয়েছে। মামলার এজাহারভুক্ত আসামিদের ধরতেও পুলিশ তৎপর রয়েছে।

এদিকে দ্বিতীয় দিনের মতো ছয় দফা দাবিতে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছে পলিটেকনিক ইন্সটিউটের শিক্ষার্থীরা। তবে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি ছিলো খুবই কম।

শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেন, ছাত্রলীগের নেতারা আন্দোলনকারীদের ফোনে ও ফেসবুকের মাধ্যমে হুমকি ও ভয়ভীতি দেখাচ্ছে। এই কারণে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি কম।

অন্যদিকে বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তর থেকে গঠিত তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি ঢাকা থেকে রোববার সন্ধ্যায় পলিটেকনিক ইন্সটিউটে পৌঁছেছে। সোমবার সকাল থেকেই তারা ইন্সটিউটের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলেছেন। ঘটনাস্থল পরিদর্শন ও পুকুরের পানির গভীরতাও পরিমাপ করেছেন। এছাড়া ইন্সটিউটের ১১১৯ নম্বর কক্ষে অবস্থিত ছাত্রলীগের টর্চার সেলও পরিদর্শন করেছেন।

তদন্ত কমিটির এক কর্মকর্তা বলেন, এখনও আমরা তদন্তের প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছি। সবার সঙ্গে কথা বলে আমরা তথ্য সংগ্রহ করছি।

এদিকে ছাত্রলীগের পলিটেক ইন্সটিটিউট শাখার যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক কামাল হোসেন সৌরভকে স্থায়ী বহিষ্কার করেছে কেন্দ্রীয় কমিটি। রাজশাহী মহানগর ছাত্রলীগ গঠিত ছয় সদস্যের তদন্ত কমিটিও সোমবার সকালে ইন্সটিটিউটে এসে শিক্ষকদের সঙ্গে কথা বলেছে। তারা দাবি করেছেন, একমাত্র কামাল হোসেন সৌরভ ব্যতিত ছাত্রলীগের আর কোনো নেতাকর্মী হামলার সময় ছিলেন না।

উল্লেখ্য, অনুপস্থিতির কারণে পরীক্ষার ফরম পূরণ করতে না দেওয়ায় শনিবার দুপুরে নিজ কার্যালয়ের সামনে থেকে টেনে হিঁচড়ে তুলে নিয়ে অধ্যক্ষককে ক্যাম্পাসের ভেতরের পুকুরে ফেলে দেন ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। তবে সাঁতার জানার কারণে তিনি প্রাণে রক্ষা পান।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.